প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: প্রকাশিত হলো আইসিএসই (ICSE Consequence) পরীক্ষার ফলাফল, আর তাতে জয়জয়কার বর্ধমানের। মেধা আর নিরলস পরিশ্রমের মেলবন্ধনে রাজ্যের সম্ভাব্য প্রথম স্থান দখল করে তাক লাগিয়ে দিল বর্ধমান সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কৃতি ছাত্রী নিপোবীথি দত্ত (Nipobithi Dutta)। ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯৯ নম্বর (৯৯.৮ শতাংশ) পেয়ে শুধু নিজের স্কুল নয়, গোটা জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে সে।
কীভাবে এল এই অভাবনীয় সাফল্য? নিপোবীথি জানায়, মুখস্থ করার চেয়ে নিয়মিত প্র্যাকটিস এবং ধারাবাহিকতাই ছিল তার মূল হাতিয়ার। দীর্ঘক্ষণ একটানা পড়ার বদলে নিজের মতো করে সময় ভাগ করে নিত সে। সন্ধ্যার সময়টি পড়ার জন্য সবচেয়ে প্রিয় হলেও ছুটির দিনে সকালে পড়াশোনা করা ছিল তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়ক গ্রন্থও খুঁটিয়ে পড়ত নিপোবীথি।
নিপোবীথির পরিবারে শিক্ষার পরিবেশ শৈশব থেকেই। তার বাবা অভিজ্ঞান দত্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের (College of Burdwan) পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং মা মহাশ্বেতা রায় দত্ত বর্ধমান রাজ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক। তবে নিজের সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রেরণা সে পায় তার ঠাকুমার কাছ থেকে। মেয়ের এই সাফল্যে খুশি অধ্যাপক দম্পতিও।
নম্বরের পাহাড়ে বন্দি নয়, নিপোবীথি পুরোদস্তুর একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। গান, নাচ ও আঁকার পাশাপাশি সে একনিষ্ঠ বইপ্রেমী। বিশেষ করে গোয়েন্দা গল্প, আর তাতেও ‘ফেলুদা’ তার সবথেকে প্রিয়। ছোটবেলায় অন্যের বাড়ি বেড়াতে গিয়েও গল্পের বই নিয়ে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে বকুনি খাওয়ার মজাদার স্মৃতিও শেয়ার করেছে এই কৃতি ছাত্রী। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে আরও এগিয়ে যাওয়াই এখন তার লক্ষ্য। অধ্যবসায়, মেধা এবং বহুমুখী আগ্রহের এই সমীকরণই বর্ধমানের নিপোবীথিকে পৌঁছে দিয়েছে সেরার সিংহাসনে।
