উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে বিস্ফোরক তথ্যের সন্ধান পেয়েছে ইডি। অন্তত তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। এর জেরেই ইডির তরফে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও দপ্তরে রেইড করা হয় (I-PAC Raid)। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের দলের রাজনৈতিক তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে হানা চলাকালীন বেশ কিছু ফাইল ও নথিপত্র জোর করে নিয়ে যান।
কয়লা কেলেঙ্কারির কালো টাকা কীভাবে সাদা করে ভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে, তার হদিস পেতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে উঠে আসে আইপ্যাকের (I-PAC) নাম। সূত্রের খবর, গোয়ায় নির্বাচনের আগে কলকাতা থেকে গোয়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে ইডি, যা সরাসরি আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
টাকার উৎস ও যাত্রাপথ:
ইডির দাবি, কয়লা পাচার থেকে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ হাওয়ালার মাধ্যমে কলকাতা থেকে গোয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, এই ২০ কোটি টাকা মূলত গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রচার ও কৌশলী সংস্থার খরচের জন্য ব্যবহার করা হয়।
আইপ্যাক (I-PAC) কীভাবে জড়াল?
তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই তহবিলের অন্যতম সুবিধাভোগী। ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, কয়লা কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্তদের সঙ্গে আইপ্যাকের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে। কলকাতা থেকে গোয়ায় টাকা পাঠানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন হয়েছিল, যাতে আইপ্যাকের নাম সরাসরি সামনে না আসে। কিন্তু মানি ট্রেল বা টাকার গতিপথ ট্র্যাক করতে গিয়েই ইডি এই যোগসূত্র খুঁজে পায়।
কেন এই হানা?
সম্প্রতি আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার আধিকারিক প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির যে তল্লাশি অভিযান চলে, তার নেপথ্যে ছিল এই ২০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। ইডি মনে করছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্বাচনের কাজে লাগানোর নামে আসলে পাচার করা টাকার ‘লন্ডারিং’ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব:
তৃণমূল কংগ্রেস গোয়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় আইপ্যাক তাদের প্রচারের দায়িত্বে ছিল। ইডির এই দাবির ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দুর্নীতির টাকা ভিন রাজ্যে নির্বাচনে খরচ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করছে।
