উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বা বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জেরে নৃশংস প্রতিহিংসার ঘটনা দেশে নতুন নয়। কিন্তু এবার হায়দরাবাদের পোচারাম আইটি করিডোর (Pocharam IT Hall) এলাকায় যা ঘটল, তা শুনে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। নিজের বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় এক তরুণীর শরীরে জোরপূর্বক এইচআইভি (HIV) সংক্রমিত রক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক এবং ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী সম্পর্কে আত্মীয়। প্রাথমিকভাবে তরুণীর পরিবার তাঁদের মেয়ের সাথে ওই যুবকের বিয়ের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু যুবকের বাবা-মা দুজনেই এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ায়, সতর্কতাস্বরূপ গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে যুবকেরও রক্ত পরীক্ষা করান তরুণীর বাবা-মা।
পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, ওই যুবকও এইচআইভি পজিটিভ। এরপরই তরুণীর বাবা এই বিয়ের প্রস্তাব বাতিল করে দেন। পুলিশের ধারণা, যুবকটি ভেবেছিলেন তরুণীও যদি এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তবে তিনি সারাজীবন তাঁর সাথেই থাকবেন এবং তাঁকে বিয়ে করতে বাধ্য হবেন।
নৃশংস আক্রমণ
গত ১১ মার্চ ওই যুবক তরুণীর বাড়িতে চড়াও হন। অভিযোগ, সেখানে তিনি জোর করে তরুণীর শরীরে এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত ইনজেকশন দিয়ে পুশ করেন। এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায় তরুণীর পরিবার।
পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
তরুণীর বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে পোচারাম আইটি করিডোর থানায় একটি খুনের চেষ্টার (Try to Homicide) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, আক্রান্ত তরুণীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটির গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
অপরাধের নেপথ্যে বিকৃত মানসিকতা
পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং প্রতিহিংসামূলক অপরাধ। ‘সে আর কাউকে বিয়ে করতে পারবে না’—এই বিকৃত ভাবনা থেকেই হয়তো এই চরম পথ বেছে নিয়েছে অভিযুক্ত।
