উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ব্রিগেডের ময়দানে সভা করার স্বপ্ন আপাতত ধাক্কা খেল প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র (Janata Unnyan Occasion)। শুক্রবার ভারতীয় সেনার সদর দফতরে আবেদনের ভিত্তিতে দেখা করতে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেনার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলকেই ব্রিগেডে সভার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের পাল্টা হিসেবে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মুর্শিদাবাদে ১০ লক্ষ মানুষের বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছেন হুমায়ুন।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, ব্রিগেডে সভা করার জন্য তাঁরা নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে আবেদন করেছিলেন। সেনা কর্তৃপক্ষ তাঁদের শুক্রবার দেখা করতে বলে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখে এবং শেষে জানায় যে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না। বিকল্প হিসেবে সেনার তরফে ‘শহিদ মিনার’ ময়দানে সভা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও হুমায়ুন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর যুক্তি, জনতা উন্নয়ন পার্টির যে পরিমাণ সমর্থক রয়েছে, তাতে শহিদ মিনারে স্থান সংকুলান হওয়া অসম্ভব।
অনুমতি না পেয়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, “হুমায়ুন কবীর এখন অনেকের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হলে রাজ্য সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে, তাই হয়তো রাজ্য সরকার বা বিজেপি-র ইঙ্গিতেই সেনার এই সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও জানান যে, ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ব্রিগেডে সভার অনুমতি পায়, তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
কলকাতার ময়দানে ব্রাত্য হয়ে এবার নিজের গড় মুর্শিদাবাদকেই বেছে নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি বা ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুর্শিদাবাদের প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর বিশাল সমাবেশ করবেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্রিগেডে যা করার পরিকল্পনা ছিল, সেই ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত এবার মুর্শিদাবাদেই করে নিজের শক্তির জানান দেবেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের এই নতুন দল ও তার কর্মসূচি রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
