উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বিত বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এখন কাঠগড়ায় তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ করে চীন থেকে আনা অত্যাধুনিক HQ-9B সিস্টেম কেন ধেয়ে আসা মিসাইল বা ড্রোন ঠেকাতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
HQ-9B: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
ইরান সম্প্রতি তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে চীনের কাছ থেকে এই HQ-9B সিস্টেমটি সংগ্রহ করেছিল। বেইজিংয়ের দাবি অনুযায়ী এটি রাশিয়ার S-300 বা আমেরিকার প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের সমকক্ষ। কিন্তু তেহরানের ওপর হওয়া সাম্প্রতিক হামলায় এই সিস্টেমটি কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।
ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি: পাকিস্তান থেকে ইরান
বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এটিই প্রথম নয়। এর আগে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ (পহেলগাম জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ) চলাকালীন পাকিস্তানেও এই একই চীনা প্রযুক্তি লক্ষ্যবস্তু রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানের এই শোচনীয় পারফরম্যান্স এখন চীনা সামরিক সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
ব্যর্থতার সম্ভাব্য কারণসমূহ
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি কারণে এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে:
• প্রযুক্তিগত ত্রুটি: HQ-9B সিস্টেমের রাডার বা ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তিতে গভীর কোনো গলদ রয়েছে যা আধুনিক পশ্চিমা স্টিলথ ফাইটার বা ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত করতে অক্ষম।
• অপ্রতিরোধ্য শক্তি: মার্কিন ও ইসরায়েলের সম্মিলিত বিমান শক্তি হয়তো ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার তুলনায় এতই বেশি ছিল যে, তড়িঘড়ি করে গড়ে তোলা এই পরিকাঠামো সেই চাপ সামলাতে পারেনি।
খামেনেই পরবর্তী ইরানে এই প্রতিরক্ষা বিপর্যয় দেশটির মনোবল ভেঙে দিয়েছে। যেখানে হরমুজ প্রণালীতে উত্তজনা তুঙ্গে, সেখানে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে না পারা তেহরানের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
