উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পারদ চড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের (Saudi Arab) পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের অ্যারামকো তেল শোধনাগারের একটি প্রশাসনিক ভবনে হুথি বিদ্রোহীদের (Houthis Assault) হামলায় আগুন ধরে যায়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এই আকস্মিক আক্রমণের পালটা জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় থাকা হুথি ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী।
হামলা ও পালটা হামলাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর লড়াই এখন চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে। রিয়াধ (Riyadh) ও তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল অভিমুখী একাধিক হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি। তা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঙা অংশ রাজধানীর জনবসতি এলাকায় আছড়ে পড়ায় ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারজন সাধারণ নাগরিক জখম হয়েছেন। ইয়েমেনি তেল কোম্পানির অধীনস্থ সাবাহা তেল কেন্দ্র এবং পাহাড়ি এলাকার জ্বালানি ডিপোতে সম্ভাব্য হামলার আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সৌদি সামরিক বাহিনী। সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, ওই তেল ডিপোগুলোকে মিসাইল ও ড্রোন সংরক্ষণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল হুথিরা। উলটোদিকে, হুথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দ্যহিয়া সারে সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক করে জানান, সানায় আঘাত হানলে রিয়াধেও দেওয়া হবে “দৃঢ় ও বেদনাদায়ক” জবাব।
এই ধারাবাহিক সংঘাতের জেরে আকাশপথেও নেমে এসেছে চরম অস্থিরতা। বিমান চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের হিসাব অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবরের পর থেকে সৌদির বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ছাড়ার কথা থাকা প্রায় ৩,১২০টি বিমান (যা নির্ধারিত সূচির প্রায় ৪১ শতাংশ) বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বিমান বীমা সংস্থাদের পরামর্শে বহু আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থা রিয়াধ থেকে বিমান সরিয়ে অন্যত্র পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। একইসঙ্গে, লোহিত সাগর ও বাব এল-মানদে প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুথিদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি মন্ত্রীসভা।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজেও দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, হুথি হামলায় গত একদিনে ৬ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং খাদ্যসামগ্রীর দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার আমেরিকার কাছ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তার দাবি জানালেও, ওয়াশিংটন এখনও পর্যন্ত কেবল তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। আমেরিকার সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক জলপথ পুরোপুরি স্তব্ধ করার হুমকি দিয়ে রেখেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড়ো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

