উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হোলি হ্যায় ভাই হোলি হ্যায়… জয়া ভাদুিড় ঠাকুরসাবকে রং মাখাতে দৌড়াচ্ছেন বা বীরু বাসন্তীকে – মনে রাখবেন এঁরা কেউ বাচ্চা ছিলেন না। কিন্তু রংয়ের উৎসবে বাচ্চাদের কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন তারই উপায় (Holi Security Ideas) জানালেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শমীক বসু
হোলি রংয়ের উৎসব, আনন্দ ও মিলনের প্রতীক। রং, পিচকারি, জলবেলুন, বন্ধুদের সঙ্গে উল্লাসের জন্য শিশুদের কাছে এই উৎসব বিশেষ আকর্ষণীয়। তবে আনন্দের মাঝেও কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে ত্বক, চোখ, শ্বাসনালি ও কান সংক্রান্ত সমস্যা, অ্যালার্জি, পড়ে যাওয়া বা আঘাতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন ও প্রস্তুত থাকা জরুরি। নীচে শিশু ও অভিভাবকদের জন্য কী করবেন এবং কী করবেন না তা বিস্তারিত তুলে ধরা হল।
হোলির আগে প্রস্তুতি
কী করবেন
১) প্রাকৃতিক বা হার্বাল রং ব্যবহার করুন – রাসায়নিকযুক্ত উজ্জ্বল রং থেকে ত্বক ও চোখে জ্বালা, অ্যালার্জি ও র্যাশ হতে পারে। বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে হার্বাল রং সংগ্রহ করুন।
২) ত্বকে তেল বা ময়েশ্চারাইজার লাগান – খেলার আগে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলে লাগালে রং সহজে উঠে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয় না।
৩) পুরো হাত-পা ঢাকা পোশাক পরান – ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট ত্বককে সুরক্ষিত রাখে। সুতির পোশাক সবচেয়ে ভালো।
৪) সানগ্লাস ব্যবহার – রং ও জল থেকে চোখ রক্ষা করতে শিশুদের সানগ্লাস পরানো যেতে পারে।
৫) নখ ছোট করে কেটে রাখুন – নখ কাটা থাকলে রং জমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
৬) অ্যালার্জি বা অ্যাজমা থাকলে বিশেষ সতর্কতা – আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং ইনহেলার বা প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের কাছে রাখুন।
কী করবেন না
১) অজানা বা রাস্তার রং ব্যবহার করবেন না।
২) শিশুকে একা বাইরে খেলতে পাঠাবেন না।
৩) জলবেলুন দিয়ে মারামারি করতে উৎসাহ দেবেন না। এতে চোখ বা মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারে।
খেলার সময় সতর্কতা
কী করবেন
১) প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করুন। ছোট শিশুদের সবসময় নজরে রাখুন।
২) শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খেলার ব্যবস্থা করুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন।
৩) পর্যাপ্ত জল খাওয়ান। গরমে ডিহাইড্রেশন হতে পারে।
৪) চোখে রং ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৫) ত্বকে জ্বালা হলে খেলা বন্ধ করুন। সাবান ও জল দিয়ে ধুয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কী করবেন না
১) কারও মুখে জোর করে রং লাগাবেন না।
২) মুখ, চোখ, নাক ও কানে রং ঢোকানো থেকে বিরত থাকুন।
৩) বৈদ্যুতিক তার বা ট্রান্সফরমারের কাছে জল নিয়ে খেলবেন না।
৪) পিচ্ছিল জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করবেন না। পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
খেলার পর যত্ন
কী করবেন
১) অতিরিক্ত ঘষাঘষির বদলে মৃদু সাবান ও কুসুম গরম জলে স্নান করান।
২) ময়েশ্চারাইজার লাগান। ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে চুলকানি হতে পারে।
৩) চোখ লাল হলে বা ফুলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪) কান বা নাকে রং ঢুকলে নিজে কিছু ঢোকানোর চেষ্টা না করে প্রয়োজনে ডাক্তারবাবুর মতামত নিন।
কী করবেন না
১) কেরোসিন বা অন্য কোনও রাসায়নিক দিয়ে রং তুলবেন না। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
২) অ্যালার্জির লক্ষণ (র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, বমি) অবহেলা করবেন না।
বিশেষ সতর্কতা
- ৫ বছরের কম বয়িস শিশুদের ক্ষেত্রে ড্রাই কালার (গুঁড়ো রং) ব্যবহার কমানো ভালো।
- অ্যাজমা বা ত্বকের রোগ (এগজিমা) থাকলে হোলি সীমিত পরিসরে খেলতে দিন।
- অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন।
হোলি আনন্দের উৎসব। তবে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং অভিভাবকদের সক্রিয় তত্ত্বাবধান থাকলে হোলি হতে পারে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আনন্দময়। মনে রাখতে হবে, উৎসবের রং যেন শিশুর হাসি ও স্বাস্থ্যের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। সচেতন হোন, নিরাপদে খেলুন এবং আনন্দে কাটুক সবার হোলি।
সবচেয়ে বড় কথা কাউকে জোর করে রং মাখাবেন না। নিজেরা নেশা করবেন না বা নেশা করে বাচ্চাদের কাছে যাবেন না। বাচ্চারা যেন আপনাদের কাছ থেকে উৎসবের দিনে খারাপ কিছু না শেখে। নিজ ব্যবহারে রাঙিয়ে তুলুন নিজেকে ও সমাজকে।
