হিলি: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল হিলি ব্লক প্রশাসনের ওপর। বুধবার সন্ধ্যায় হিলি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ দাস এবং উপপ্রধান উমা খটিক বিডিওর কাছে তাঁদের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন (Hili Gram Panchayat Resignation)। এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় হিলির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিলি ব্লকের ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪টি আসনের মধ্যে ১২টিতে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা দখল করেছিল। প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশ্বজিৎ দাস এবং উপপ্রধান হন উমা খটিক। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই প্রশাসনিক স্তরে এই পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রধান বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, “চারপাশে ক্রমাগত অশান্তি দেখছিলাম, যার ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। নিজের মতো করে উন্নয়নমূলক কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই হিলির সার্বিক স্বার্থে নতুন বোর্ড যাতে গঠন হয় এবং কাজ করতে পারে, সেই প্রার্থনা জানিয়েই আমরা ইস্তফা দিয়েছি।”
হিলি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান ও উপপ্রধানের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের একসঙ্গে পদত্যাগের ঘটনাটি কি কেবলই মানসিক অবসাদ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

