অনসূয়া চৌধুরী ও সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে (Central Correctional House) অতিরিক্ত বন্দির সংখ্যা সংক্রমণ (Herpes Outbreak in Jail) নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশোধনাগারে বন্দিদের ভিড় না কমালে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত তিন থেকে চার মাসে প্রায় ২০ জন বন্দি মুখের আলসারে আক্রান্ত হওয়ায় সংশোধনাগার চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আক্রান্ত অনেক বন্দিকে চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বন্দিদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট বর্তমানে কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।
জলপাইগুড়ি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার বলেন, ‘বন্দিদের মধ্যে হারপিস সিমপ্লেক্স সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ। আমাদের তরফে নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। তবে, এই ধরনের সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায় সেজন্য জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।’ এই গাইডলাইনের মধ্যে বন্দিদের গাদাগাদি করে রাখার ব্যবস্থার পরিবর্তন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টির দিকে নজর রাখা এবং জামাকাপড় অদলবদল বন্ধের মতো জরুরি কিছু পদক্ষেপ রয়েছে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশমতো কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়ে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।
বর্তমানে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে প্রায় ১৪০০ জন বন্দি রয়েছে। অথচ এই সংশোধনাগারে মাত্র ৬০০ জনের রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। হিসেব করলে দেখা যাবে বন্দির সংখ্যা অনুমোদিত সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। এমন ঘিঞ্জি পরিবেশে ছোঁয়াচে রোগ বা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এই বিষয়ে সংশোধনাগারের কোনও আধিকারিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিকেলে জেলা শাসককে মেসেজ করা হলেও তাঁর কাছ থেকে কোনও উত্তর মেলেনি।
হারপিস সিমপ্লেক্স আসলে কী? জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের (Jalpaiguri Hospital) অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক নিরঞ্জন হালদারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, ‘হারপিস সিমপ্লেক্স হল ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এটি সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি টাইপ–১, যা মূলত মুখ ও ঠোঁটে দেখা দেয় এবং অপরটি টাইপ–২, যা যৌনাঙ্গে হয়। ঠোঁট বা মুখে এই সংক্রমণ হলে জ্বালা-যন্ত্রণার সঙ্গে খেতে প্রচণ্ড সমস্যা হয়। যৌনাঙ্গে সংক্রমণ হলে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হয়। এক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা উচিত।’ একবার এই রোগ হলে পরেও তা ফের হতে পারে বলে তিনি জানান।
গত এক মাসে অসুস্থ হয়ে এই সংশোধনাগারের দুজন বন্দির মৃত্যুর খবর মিলেছিল। তাঁরা আগে এই মুখের আলসার রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে ওই বন্দিদের মৃত্যুর কারণ হারপিস সিমপ্লেক্স নয় বলে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রায় ২০ জন বন্দি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
