নাগরাকাটা: বাড়িতে আগুন লেগে (Hearth) সর্বস্বান্ত হয়ে গেল এক পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার (Migrant employee)। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে আংরাভাসা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ধূমপাড়ায়। খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থেকে দমকল আসলেও তার আগেই বাড়িটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের জেরে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে পরিবারটির যাবতীয় নথিপত্রও। এই ঘটনায় রীতিমতো মুষড়ে পড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটি রাজ ছেত্রী নামে এক ব্যক্তির। তিনি সিকিমে কাজ করেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁর বাড়ি আগুন লাগে। সে সময় বাড়িতে একটি শিশু ছাড়া আর কেউ ছিল না। আর আগুন দেখামাত্রই উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে বরাত জোরে রক্ষা পায় সে। কিন্তু নিমেষের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা কাঠের দোতলা বাড়িটিকে গ্রাস করে ফেলে। ফলে মাত্র কিছুদিন আগে কেনা একটি স্কুটি সহ যাবতীয় আসবাবপত্র, কিছু নগদ টাকা, অলঙ্কার সমস্ত কিছু ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটেছে।
রাজ ছেত্রী স্ত্রী কল্পনা বলেন, ‘লাগোয়া একটি চা বাগানে কাঁচা পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তখনই এই ঘটনা ঘটে যায়। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব জানা নেই।’ ওই বাড়িতে রাজের স্ত্রী ছাড়াও তাঁর দুই ভাই থাকে। এক ভাই নীরজ এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার সমস্ত বইপত্র, স্কুলের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট সব কিছু ছাই হয়ে গিয়েছে। এদিন ভস্মীভূত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রীতিমতো হাউমাউ করে কাঁদছিল ছেলেটি।
স্থানীয় সমাজসেবী গণেশ রায় বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতা না পেলে রাজার পরিবার অথৈ জলে পড়বে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’ নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা ফুলেশ্বরী রায় বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সর্বোতভাবে ওই পরিবারের পাশে রয়েছি।’
