হরিশ্চন্দ্রপুর: টানা ৫ বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে এলাকারই এক পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সরকারি প্রকল্পের অনুদান নিয়ে এই অভিযোগ (Lakshmi Bhandar corruption) সামনে আসতেই উত্তাল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি (BJP)। গেরুয়া শিবিরের আশঙ্কা, প্রায় তিনশোর বেশি পরিবার এই দুর্নীতির শিকার।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে হরিশ্চন্দ্রপুরের সোনাকুল গ্রামের বাসিন্দা নুন নাহার। ২০২১ সালে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি একটি টাকাও পাননি। অথচ সমস্ত নথি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা নিয়মিত জমা পড়েছে স্থানীয় এক গৃহশিক্ষক গোলাম মর্তুজার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। নুন নাহারের দাবি, বারবার দুয়ারে সরকার শিবিরে অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ‘বৃহত্তর দুর্নীতির চক্র’ বলে অভিহিত করেছেন বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছাড়াও গাছ লাগানো প্রকল্প, ইন্দিরা আবাস যোজনা সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির পাহাড় জমেছে। তাঁর কথায়, ‘এটা শুধু শুরু। আগামীদিনে আরও বড় বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হবে।’ এদিকে, এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অন্যায় কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তবে তাঁর ইঙ্গিত আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিধায়ক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই দুর্নীতির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ, হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও এবং পূর্বতন বিধায়ক তাজমুল হোসেন ঘনিষ্ঠ মহলের যোগসাজশ থাকতে পারে। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
পাঁচ বছর ধরে অন্যের অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা যাওয়ার পরেও প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। এটি কি শুধুই প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটের সুসংগঠিত চক্র, তা নিয়ে এখন সরগরম হরিশ্চন্দ্রপুর।
