Harishchandrapur | বন্দি মেম্বারকে এনেও রক্ষা হল না! কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতে ভেস্তে গেল বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব, চেয়ার বাঁচাতে সফল সিপিএম প্রধান শামীমা  

Harishchandrapur | বন্দি মেম্বারকে এনেও রক্ষা হল না! কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতে ভেস্তে গেল বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব, চেয়ার বাঁচাতে সফল সিপিএম প্রধান শামীমা  

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


হরিশ্চন্দ্রপুর: জেল থেকে জামিন করিয়ে বা আদালতের নির্দেশে প্রিজন ভ্যান থেকে সরাসরি পঞ্চায়েত অফিসে হাজির করিয়েও শেষরক্ষা হলো না। বিরোধী গোষ্ঠীর আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি ভেস্তে যাওয়ায় নিজের পদ বাঁচাতে সফল হলেন কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Kushida gram panchayat no confidence movement)। বুধবার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর (Harishchandrapur) ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন ও অনাস্থা সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে বিএনএস ১৬৩ ধারা জারির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল জেলা পুলিশ প্রশাসন।

পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ আসন বিশিষ্ট কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতে মূল দলগত পরিসংখ্যান ছিল—তৃণমূল ৯টি, কংগ্রেস ৬টি, সিপিএম ৫টি এবং বিজেপি ও নির্দল ৪টি করে আসন পায়। নির্বাচনের পর সিপিএমের শামীমা পারভিন প্রধান হলেও, পরবর্তীতে প্রধান-সহ বেশিরভাগ সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় বোর্ড চলে যায় ঘাসফুল শিবিরের দখলে।

সম্প্রতি বর্তমান প্রধানকে গদিচ্যুত করতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে কোমর বেঁধে নামে বিরোধী জোট। যেখানে কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূলেরই একাংশ, সিপিএম এবং বিজেপির কিছু সদস্য হাত মেলায়। এই আবহে বুধবার ছিল অনাস্থার তলবি সভা। অভিযোগ, অনাস্থা প্রস্তাব পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার নিশ্চিত করতে জেল থেকে ধৃত এক বিজেপি সদস্যকে আদালতে অনুমতি নিয়ে সভার অন্দরে হাজির করানো হয়েছিল।

অনাস্থা পেশকারী বিরোধী সদস্যদের মূল অভিযোগ, দৌলা বুথের বিজেপি সদস্য শঙ্কর চন্দ্র রায় আর্থিক দুর্নীতির একটি মামলায় কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার হয়ে জেল হেপাজতে ছিলেন। আদালতের নির্দেশে এদিন তিনি অনাস্থা সভায় যোগ দিতে আসেন। অভিযোগ, তিনি পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষর করার ঠিক পরেই তাঁকে বাইরে ডেকে পাঠানো হয় এবং জোর করে বা চক্রান্ত করে সভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে কোরাম বা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ভেস্তে যায় অনাস্থা সভা এবং প্রধান পদে বহাল থাকেন শামীমা পারভিন।

এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনাস্থা আনয়নকারী সদস্য ও সমর্থকরা। প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। অনাস্থার পক্ষে থাকা সদস্য সাকিব আলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশে শঙ্কর সভায় এসেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ভোটাভুটি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ভেতরে থাকার কথা। কিন্তু বাইরে থেকে কোনো আধিকারিক তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখা হোক।’’

যদিও বিরোধী শিবিরের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের সাফ দাবি, জোর করে বা সরিয়ে দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শঙ্কর চন্দ্র রায় নিজেই প্রিসাইডিং অফিসারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি ভোট দেবেন না। এরপর আইনি নিয়ম মেনেই তাঁকে পুনরায় সুরক্ষিতভাবে জেল হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যদিকে, নিজের পদ রক্ষা হওয়ার পর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শামীমা পারভিন জানান, ভোটদান সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার। শঙ্কর বাবু ঠিক কী কারণে ভোট দিলেন না বা কেন অংশ নিলেন না, সে বিষয়ে তাঁর কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে আদালতের নির্দেশ এবং বন্দি সদস্যকে ঘিরে হওয়া এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ঘিরে হরিশ্চন্দ্রপুরে শোরগোল পড়ে গেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *