হরিশ্চন্দ্রপুর: আবাসের টাকায় পাকা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন ছিল দিনমজুর পরিবারের। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল কাটমানি। প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকতেই জোর করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীর বিরুদ্ধে। কাটমানি না দিলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না ঢোকার হুমকিও দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়েই টাকা দিতে রাজি হয় ওই অসহায় পরিবার। ঘটনাটি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধানগর গ্রামের (Harishchandrapur)। এদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা।
জানা গিয়েছে, রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা বিচ্ছু দাস পেশায় দিনমজুর। দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে নিয়ে জরাজীর্ণ বাড়িতেই বসবাস। তবে আবাসের তালিকাতে নাম ওঠার পর প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢোকে। কিন্তু অভিযোগ, ওই বুথের বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা রিতা দাসের স্বামী সূর্য দাসের মোবাইলে কিস্তির টাকা ঢোকার মেসেজ পৌঁছে যায়। এরপরই সূর্য দাস জোর করে ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে ১৫ হাজার টাকা তুলিয়ে এনে কাটমানি নেন। না দিলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে না বলেও হুমকি দেন। এদিকে এত পরিমাণ কাটমানি দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে তাঁরা বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্যা। উলটে এই ঘটনাকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন তিনি। এপ্রসঙ্গে এলাকার বিজেপি নেতৃত্বের সাফাই, দলের কাছে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বিজেপিকে কটাক্ষের সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূলও। দলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কেউ কোথাও কাটমানি না দেন। এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় কখনও কংগ্রেস আবার কখনও বিজেপি সাধারণ মানুষকে এইভাবে ঠকাচ্ছে। পুলিশের পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনা মৌখিকভাবে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে ওই পরিবার। জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া বিডিওকে এবিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে এফআইআর দায়ের করতে বলা হয়েছে।
