উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ১৩ বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল কথা বলার শক্তি, স্বাভাবিক জীবন। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে কোমায় আচ্ছন্ন ৩২ বছরের যুবক হরিশ রানা (Harish Rana Passive Euthanasia Verdict)। অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে থামতে চলেছে তাঁর এই যন্ত্রণাময় পথচলা। ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে প্রথমবার ‘প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া’ বা পরোক্ষভাবে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর (Passive Euthanasia) অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই নজিরবিহীন রায় ঘোষণা করে।
২০১৮-র রায়ের পরিমার্জন ও নতুন দিশা
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court docket) প্রথমবার প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া বা সম্মানজনক মৃত্যুর অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু হরিশ রানার ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ২০১৮-র নীতিমালায় সাধারণত ভেন্টিলেটর বা লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার কথা বলা ছিল। কিন্তু হরিশ রানা বেঁচে ছিলেন ফিডিং টিউবের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শরীরে পাঠানো খাবারের সাহায্যে। নলে করে খাবার দেওয়াকে কি লাইফ সাপোর্ট বলা যাবে? এই ধোঁয়াশার কারণেই দীর্ঘ আইনি লড়াই লড়তে হচ্ছিল হরিশের বৃদ্ধ বাবা-মাকে। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিল, কোনো রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা যদি চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে শূন্য হয়, তবে ফিডিং টিউব বা চিকিৎসার অন্যান্য উপকরণ সরিয়ে নিয়ে তাঁকে সম্মানজনক মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেওয়া বৈধ।
আবেগে ভাসলেন বিচারপতিরা
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, হরিশের মস্তিষ্কের আঘাত এমন পর্যায়ে যে সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। ছেলের এই তিল তিল করে মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। সুপ্রিম কোর্ট এদিন মানবিক দিকটি বিবেচনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, ধাপে ধাপে চিকিৎসা বন্ধ করে হরিশকে চিরশান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ করে দিতে।
কেন এটি ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট?
আইনজীবীদের মতে, এই রায় ভারতের চিকিৎসা আইন ও মানবাধিকারের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। এতদিন লাইফ সাপোর্ট বলতে শুধু ভেন্টিলেটরকে বোঝালেও, এখন থেকে ‘মেডিক্যাল ফিডিং টিউব’ প্রত্যাহারও এই প্যাসিভ ইউথেনেসিয়ার আওতায় চলে এল। দেশের কোটি কোটি মানুষের ‘রাইট টু ডাই উইথ ডিগনিটি’ বা মর্যাদার সঙ্গে মরার অধিকার এই রায়ের ফলে আরও জোরালো হলো।
