শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা) এবং একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে সল্টলেকের সিটি সেন্টারে শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি চায়ের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এই প্রদর্শনী এবং বিপণন কর্মসূচি চলবে রবিবার পর্যন্ত। প্রথম দিনেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর তৈরি ‘হ্যান্ডমেড টি’ (Handmade Tea)। চা পাতা শুকানোর জন্য ড্রায়ার ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনও যন্ত্রের ব্যবহার করেন না স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। কোনও যন্ত্র ব্যবহার না করে উত্তরের ক্ষুদ্র চা চাষিরা ‘হ্যান্ডমেড’ সিটিসি টি, গ্রিন টি , অর্থডক্স টি এমনকি হোয়াইট টি-এর মতো স্পেশাল ক্যাটিগোরির চা তৈরি করছেন। মহিলারা এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। হাতে তৈরি এই চা বাজার মাত করছে দেখে খুশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। এই বিষয়ে সিস্টার সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরবঙ্গে ক্ষুদ্র চা চাষিদের ১৩০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলাতে এইরকম ৯২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী আছে। জলপাইগুড়ির বিভিন্ন ব্লকের বধূদের হ্যান্ডমেড টি তৈরির কৌশল শিখিয়ে বিকল্প আয়ের এই সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।’
জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও দার্জিলিং মূলত এই ৩ জেলার ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি ‘হ্যান্ডমেড টি’ তৈরিতে যে মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছে, সেটা প্রশংসার দাবি রাখে। সিটং, মিনারেল স্প্রিং, জয় জল্পেশ ক্ষুদ্র চা চাষি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, জামতলা মহিলা ক্ষুদ্র চা চাষি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, রুকরুকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, নতুন বস্তি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, মেখলিগঞ্জের দ্বারিকামারি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর চা চাষিদের হাতে তৈরি চা প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই ক্রেতা মহলে আলোড়ন ফেলেছে।
ময়নাগুড়ির সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত জামতলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দীপ্তি রায় বলেন, ‘আমাদের গোষ্ঠীর নিজস্ব বাগান আছে। ওই বাগানের পাতা দিয়েই বাড়িতে বসে মহিলারা এই চা তৈরি করছেন। এলাকাটি হাতি ও চিতাবাঘ উপদ্রুত। ওই দুই বুনোর সঙ্গে আমাদের সহাবস্থান এবং দিনযাপন। তাই আমরা এই চায়ের নাম ওয়াইল্ড লাইফ ফ্রেন্ডলি টি রেখেছি।’ সিটং-এর ক্ষুদ্র চা চাষিরা ‘অর্থডক্স’ চা-এর সম্ভার নিয়ে এই প্রদর্শনীতে এসেছেন। ক্ষুদ্র চা চাষি বিকাশ রাই বলেন, ‘আমাদের তৈরি জৈব চা-ও দার্জিলিং-এর চা মতোই আইকনিক। এখন অনেকেই ‘হ্যান্ডমেড টি’ বানাতে এগিয়ে আসছেন।’
ক্ষুদ্র চা চাষিদের তৈরি হ্যান্ডমেড টি ক্রেতা মহলে সমাদর পাওয়ায়, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সভাপতি রজত রায় কার্জি বলেন, ‘এই সাড়া পেয়ে আমরা অভিভূত। ক্ষুদ্র চা চাষিরা যাতে চা উৎপাদনে আরও বেশি করে এগিয়ে আসেন, তার জন্য টি বোর্ডকে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’
