হলদিবাড়ি: পিকনিক পার্টির ফেলা প্লাস্টিক সহ অন্য বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে তিস্তা নদীর জল। প্রতিবছরই পিকনিক মরশুমে তা নিয়ে সরব হন স্থানীয় গ্রামবাসী সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। তারপরও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কোনও হেলদোল দেখা যায় না বলে অভিযোগ। পিকনিকের মরশুম শেষ হতে চলল। এবছরও একই দৃশ্য চোখে পড়ছে।
হলদিবাড়ি ব্লকের বক্সীগঞ্জ এবং পারমেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা নদী। প্রতিবছর শীতের মরশুম শুরু হতেই জয়ী সেতু সংলগ্ন বেলতলি ঘাটের চারদিকে বসে পিকনিকের আসর। তিস্তা নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং জয়ী সেতু পরিদর্শন করতে শুধু হলদিবাড়ি ব্লকের মানুষ নয়, দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে পিকনিক করতে ভিড় জমান।
পিকনিক করা নিয়ে গ্রামবাসীর আপত্তি নেই। তাঁদের অভিযোগ, পিকনিকের পর থার্মোকলের থালা, প্লাস্টিকের বোতল, গ্লাস, এমনকি সবজির খোসাও তিস্তার জলেই ফেলা হয়। এতে তিস্তা নদীর জল সহ এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অথচ তিস্তার জলের উপর নির্ভর করে জীবনধারণ করেন তিস্তাচরে বসবাসকারী প্রচুর মানুষ।
বেলতলির বাসিন্দা সুজয় মণ্ডলের কথায়, ‘শীতের মরশুমে পর্যটকরা এখানে পিকনিক করতে আসেন। পিকনিকের পর যেভাবে নদীতে প্লাস্টিক সহ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে নদীর জল ও এলাকায় দূষণ বাড়ছে। কৃষকরা নদীর এই জল ব্যবহার করে চাষাবাদ করেন। নদীর মাছ ধরে বিক্রি করে আবার অনেকে জীবনধারণ করেন। জল দূষিত হওয়ায় মাছ পেতেও সমস্যা হচ্ছে।’ আরেক স্থানীয় তরুণ আকবর আলির অভিযোগ, খাবারের উচ্ছিষ্ট পচে দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি নদীর চরে যত্রতত্র মদের খালি বোতল পড়ে থাকে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বছরের পর বছর একই ঘটনা ঘটছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের তরফে কোনও উদ্যোগই নিতে দেখা যায়নি। এই বিষয়ে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা দেখে পিকনিক পার্টিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় ছাত্রছাত্রী এবং পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁরা লাগাতার সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু তাতেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি বলেই অভিযোগ। পারমেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রমানাথ বর্মন অবশ্য বললেন, ‘সামনের বছর থেকে তিস্তা নদীর চরে পিকনিক স্পটগুলিতে আসা মানুষজনের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ফ্লেক্স তৈরি করা হবে। সঙ্গে নজরদারি চালানো হবে।
