হলদিবাড়ি: অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করতে গিয়ে নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে। বিডিও অফিসে নথিপত্র জমা দিতে এসে এমনই অভিযোগ তুলছেন মহিলারা। প্রশাসনের তরফে একেক সময় একেক রকম অর্ডার আসায় একজন উপভোক্তাকে একাধিকবার ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। প্রথমে অফলাইন ও পরবর্তীতে অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে বলেও অভিযোগ। দূরবর্তী এলাকা থেকে একাধিকবার বিডিও অফিসে এসে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। গরম ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিশু কোলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম ও নথিপত্র জমা করতে হচ্ছে। এতকিছুর পরেও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর যে সকল উপভোক্তা ইতিমধ্যে প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন, বর্তমানে তাঁদেরও পুনরায় অনলাইনে আবেদন করতে হচ্ছে। অনলাইনে আবেদনের রসিদ ও নথিপত্র একত্রে বিডিও অফিসে জমা করতে হচ্ছে।
বিডিও অফিসে আগত উপভোক্তা নীলিমা রায়ের অভিযোগ, ‘একই প্রকল্পের সুবিধা পেতে দু’বার করে আবেদন করতে হচ্ছে। এরজন্য একাধিকবার লাইনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ হচ্ছে। যা দেখছি, আবেদন করতেই তো প্রথম মাসের টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।’
রবিবার বিডিও অফিসে গিয়ে দেখা গেল, টোটোয় চেপে মহিলারা ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিডিও অফিসে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে নথিপত্র জমা করছেন। গোড়ার দিকে ১২ পাতার সুদীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি দেখা দিয়েছিল। এখন একাধিকবার সেই ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে ফের তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিকিতা সরকারের কথায়, ‘কয়েক মাস ধরে প্রশাসন লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রথমে এসআইআর, তারপর ভোট থেকে ডিবিটি লিংক, আধার কার্ডে ফোন নম্বরের লিংক, অফলাইনে অন্নপূর্ণার ফর্ম জমা, জনকল্যাণ শিবির। এবার অনলাইনের জন্য ক্যাফেতে লাইন, তার নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য বিডিও অফিসে লাইন।’ মে মাসের শেষের দিকে একইসঙ্গে অফলাইনে পূরণ করা ফর্ম জমা করে কারও কারও অ্যাকাউন্টে চলতি মাসের ৩ তারিখ ৩০০০ টাকা ঢুকেছে। অনেকে আজও সেই টাকা পাননি।
গোড়া থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের মধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কিছুদিন অন্তর এই প্রকল্প নিয়ে নতুন নতুন অর্ডার আসছে। সে বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শাসকদলের নেতৃত্ব নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারছেন না। শিক্ষক আব্দুর জলিল সরকার বলছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক থাকাকালীন মনোজ আগরওয়াল এসআইআর নিয়ে একেকদিন একেকরকম অর্ডার দিয়ে প্রশাসন, বিএলও থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব নিযুক্ত হয়েছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই কাজ করছেন।’
ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, অফলাইনে আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন করে তার নথি সহ অন্য নথিপত্র সোমবারের মধ্যে জমা না করলে আগামী মাসের টাকা ঢুকবে না। তাই পরিস্থিতি সামলাতে রবিবার ছুটির দিনও নথিপত্র জমা নেওয়া হয়েছে।

