উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ঘন কুয়াশা আর প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতি কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। গ্রেটার নয়ডায় গাড়ি সুদ্ধ ৭০ ফুট গভীর নর্দমায় পড়ে মৃত্যু হল ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার (Gurugram techie dying)। মৃত্যুর আগে মুহূর্তেই বাবাকে ফোন করেছিলেন যুবরাজ। আর্তনাদ করে বলেছিলেন, “বাবা, আমি একটা গভীর গর্তে পড়ে গেছি। জল ঢুকে যাচ্ছে, আমি ডুবে যাচ্ছি। আমাকে বাঁচাও, আমি মরতে চাই না।” কিন্তু সেই আর্তি বিফলে গেল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টার পর যখন তাঁকে উদ্ধার করা হল, তখন সব শেষ।
ঘটনার বিবরণ:
শুক্রবার রাতে অফিস থেকে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে গ্রেটার নয়ডার সেক্টর ১৫০ এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় ছিল না বললেই চলে। তার ওপর রাস্তায় ছিল না কোনো রিফ্লেক্টর বা সতর্কীকরণ চিহ্ন। রাস্তার পাশেই ছিল প্রায় ৭০ ফুট গভীর একটি জলভর্তি নর্দমা। দিকভ্রান্ত হয়ে যুবরাজের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা সেই নর্দমায় গিয়ে পড়ে।
হৃদয়বিদারক:
গাড়িটি যখন জলে ডুবছিল, তখন বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন যুবরাজ। চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন তাঁর চিৎকার শুনলেও ঘন কুয়াশা ও গভীর জলের কারণে কেউ উদ্ধারে নামতে সাহস পাননি। সেই চরম আতঙ্কের মুহূর্তে বাবাকে শেষ ফোনটি করেছিলেন তিনি। ছেলের এই করুণ আর্তি শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বাবা রাজকুমার মেহতা। চলে আসে পুলিশও কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কেউ কিছু করতে পারেনি।
উদ্ধারকাজ ও গাফিলতির অভিযোগ:
পুলিশ, ডুবুরি এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায়। অবশেষে ক্রেন দিয়ে গাড়িটি তোলা হয় এবং ভিতর থেকে যুবরাজের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মৃত যুবকের পরিবার ও স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তার পাশে এত বড় মরণফাঁদ থাকলেও সেখানে কোনো ব্যারিকেড বা ফেন্সিং ছিল না। এমনকি কুয়াশার জন্য প্রয়োজনীয় রিফ্লেক্টরও লাগানো হয়নি। এই ঘটনার ভিত্তিতে পুলিশ দুটি নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। স্থানীয় নলেজ পার্ক থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
