উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার রাতের অন্ধকার নেমে আসতেই রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে বিষাদের ছায়া। গুরুগ্রামের গ্লোবাল সিগনেচার সোসাইটিতে নির্মীয়মাণ প্রকল্পের কাজ চলাকালীন হঠাৎ নেমে আসা বিপর্যয় কেড়ে নিল ৭টি তাজা প্রাণ। ধসে পড়া মাটির দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে সাত শ্রমিকের, যাদের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনো অজানা।
মুহূর্তের বিপর্যয়: যখন মাটি হলো গ্রাসকারী
রাত তখন ঠিক ৮টা। গুরুগ্রামের ওই সোসাইটিতে তখন জোরকদমে চলছিল পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার বা এসটিপি (STP) তৈরির কাজ। বেসমেন্টে গভীর গর্ত খুঁড়ে কাজ করার সময় আচমকাই ওপরের মাটির দেওয়াল হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। নিমিষেই ১০ জন শ্রমিক সেই বিশাল মাটির স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। সহকর্মীরা উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কাদা-মাটির গভীরতায় তাঁরা ছিলেন অসহায়।
উদ্ধারকাজে দীর্ঘ লড়াই
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিলাসপুর থানার পুলিশ এবং এসডিআরএফ (SDRF) বাহিনী। কিন্তু উদ্ধারকাজ ছিল চরম চ্যালেঞ্জিং।
• কাদা ও পিচ্ছিল মাটি: বৃষ্টির রেশ বা মাটির প্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
• ভৌগোলিক অবস্থান: ঘটনাস্থল শহর থেকে দূরে রাজস্থান ও হরিয়ানার সীমান্তে হওয়ায় সরঞ্জাম পৌঁছাতেও বেগ পেতে হয়।
শেষ পর্যন্ত মাটি সরিয়ে যখন তাঁদের উদ্ধার করা হয়, ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তড়িঘড়ি তাঁদের পার্শ্ববর্তী রাজস্থানের ভিওয়াড়ি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শোকাতুর ভিওয়াড়ি হাসপাতাল
হাসপাতালের চিকিৎসক সাগর অরোরা নিশ্চিত করেছেন যে, সাতজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। বর্তমানে তিনজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন:
1. পরমেশ্বর (৫২)
2. সতীশ (৩৫)
3. ভাগীরথ (৫০)
4. মঙ্গল (৩২) (বাকি তিনজনের পরিচয় এখনও শনাক্তকরণের অপেক্ষায়)
ক্ষোভের মুখে প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ
এই দুর্ঘটনা ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র উত্তেজনা। মৃত শ্রমিকদের পরিবারের অভিযোগ, নির্মাণের সময় ন্যূনতম নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। তাঁদের দাবি:
• অবহেলার অভিযোগ: প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই মৃত্যু।
• অস্বচ্ছতা: পরিবারের সদস্যদের দুর্ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
