Gujarat | ঈশ্বরের ঘরেও চোরের নজর! রামমন্দির-বদ্রীনাথের পর এবার কোটি টাকার প্রণামী চুরির হদিশ গুজরাটের অম্বাজি মন্দিরে

Gujarat | ঈশ্বরের ঘরেও চোরের নজর! রামমন্দির-বদ্রীনাথের পর এবার কোটি টাকার প্রণামী চুরির হদিশ গুজরাটের অম্বাজি মন্দিরে

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ধর্মস্থানের পবিত্র দানবাক্সও কি এখন চোরেদের সহজ নিশানা? অযোধ্যার রামজন্মভূমি মন্দির এবং উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ তছরূপের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে চলা তুমুল বিতর্কের মাঝেই, এবার এক নতুন কেলেঙ্কারি সামনে এল গুজরাটে (Gujarat)। রাজ্যের বনাসকাঁঠা জেলার বিখ্যাত ‘অম্বাজি মন্দিরে’ (Ambaji Temple) ভক্তদের ভক্তিভরে দেওয়া প্রণামীর টাকা চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ভিডিওটিতে (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) দেখা যাচ্ছে, মন্দিরের ভেতর যেখানে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর টাকা গোনার কাজ চলে, সেখানেই ঘটেছে এই কাণ্ড। মন্দির প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি মে মাসের। অভিযুক্ত চিরাগ ঠাকুর নামের এক আউটসোর্সিং কর্মী টাকা গোনার সময় অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে একটি নোটের বান্ডিল নিজের পকেটে পুরে ফেলেছিল। এরপরই সে শৌচাগারে যাওয়ার বাহানা করে ঘর থেকে বের হতে যায়। কিন্তু অতি লোভে তাঁতি নষ্ট! তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরনোর সময় তার পকেট থেকে টাকার বান্ডিলটি মেঝেতে পড়ে যায়। অন্য সহকর্মীদের চোখে তা আসতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় ওই চোর।

এই ঘটনার পর মন্দির ট্রাস্টের অন্দরে শোরগোল পড়ে যায়। তড়িঘড়ি অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলে জানা যায়, এই চুরির চক্রে চিরাগ একা ছিল না; আউটসোর্সিং এজেন্সির আরও দুই কর্মী এই জালিয়াতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল।

ঘটনার জল গড়াতেই আসরে নামে পুলিশ। বনাসকাঁঠার জেলাশাসক এবং ‘শ্রী আরাসুরি অম্বাজি মাতা দেবস্থান ট্রাস্ট’-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি মিহির পটেল এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি জানান: “আইন নিজের পথে চলেছে। মন্দির প্রশাসনের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করার পর অভিযুক্ত তিন জন কর্মীকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাদের অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

অযোধ্যা বা বদ্রীনাথের মতো হাই-প্রোফাইল মন্দিরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অম্বাজি মন্দিরের এই ঘটনা দেশের বড় বড় দেবস্থানগুলোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। চুক্তিভিত্তিক বা আউটসোর্স করা কর্মীদের ওপর ভরসা করে কোটি কোটি টাকার প্রণামী গণনা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ভক্তদের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের কলঙ্কজনক ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য অম্বাজি মন্দির ট্রাস্ট টাকা গোনার পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন এবং নিশ্ছিদ্র ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওয়র’ (SOP) বা আদর্শ আচরণবিধি চালু করেছে। এখন থেকে কড়া সিসিটিভি নজরদারি এবং সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই কেবল মাত্র প্রণামী গণনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *