শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: একলাফে দ্বিগুণ ভাড়া বাড়ল গরুমারা (Gorumara) বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে থাকা চারটি বনবাংলোর (Forest bungalow)। পাশাপাশি বনবাংলোর অফলাইন বুকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে থাকা বেশিরভাগ বনবাংলো নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পর সেগুলি পর্যটকদের জন্য চালু করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অফলাইনে বুকিং বন্ধের পাশাপাশি ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। বন দপ্তরের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই বনবাংলোগুলি। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র থাকার ঠিকানা এগুলিই। বেসরকারি রিসর্টগুলি বিলাসবহুল হলেও জঙ্গলের অকৃত্রিম স্বাদ পেতে এই বনবাংলোগুলিই পর্যটকদের প্রথম পছন্দ।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে কালীপুর, ধূপঝোরা, পানঝোরা, মৌচুকি, রামশাই রাইনো ক্যাম্প, লাটাগুড়ি হর্নবিল ও মূর্তি- এই বনবাংলোগুলি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এই বনবাংলোগুলোর বেশিরভাগই বেহাল হয়ে পড়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন বন দপ্তরের তরফে এই বনবাংলোগুলি পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। তার ওপর হলং বনবাংলোয় অগ্নিকাণ্ডের জেরে ঢেলে সাজানো হয় বনবাংলোগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। গত ডিসেম্বর মাস থেকে একে একে বনবাংলোগুলি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পাশাপাশি অফলাইনে এগুলির বুকিং দেওয়া শুরু করে বন দপ্তর।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, নতুন করে অফলাইনে বুকিং দেওয়া হলেও বনবাংলোগুলিতে বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটকরা মোবাইল ও ক্যামেরার চার্জ দিতে বা ফ্যান ব্যবহার করতে পারতেন না। পর্যটকদের জন্য চার্জার লাইট দেওয়া হত রাতে ব্যবহারের জন্য। ফলে বনবাংলোগুলির ভাড়া অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছিল। কয়েক মাস হল বনবাংলোগুলিতে সোলারচালিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। সেইসঙ্গে অফলাইন বুকিং বন্ধ করে বনবাংলোগুলির অনলাইন বুকিং শুরু হয়েছে।
গত মাসের ২১ তারিখ থেকে বনবাংলোগুিল অনলাইনে বুক করার সিদ্ধান্ত নেয় বন দপ্তর। তখন থেকেই বনবাংলোর ভাড়া ১২০০ থেকে বাড়িয়ে ২৪৪০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে থাকা সাতটি বনবাংলোর মধ্যে চারটি চালু থাকলেও রামশাই রাইনো ক্যাম্প, হর্নবিল ও মূর্তি টেন্ট এখনও চালু করতে পারেনি বন দপ্তর। এগুলি সংস্কার করে সোলারচালিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা করার কাজ চলছে।
উত্তরবঙ্গের প্রায় সবক’টি বনবাংলোর বুকিং অনলাইনে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের মাধ্যমে হয়। উত্তরবঙ্গের নেওড়া জঙ্গল ক্যাম্প, মালঙ্গি লজ, মেন্দাবাড়ি লজ, জলদাপাড়া লজ সহ অন্যান্য লজের ভাড়া প্রথম থেকেই ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে ছিল। এগুলো ভাড়ার কোনও হেরফের না হলেও শুধুমাত্র গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে থাকা সাতটি বনবাংলোর ভাড়া কমিয়ে এনেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সংস্কারের পর ফের সেগুলির ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের চালু হওয়া বনবাংলোগুলির ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ী উজ্জ্বল শীল মনে করেন, বন দপ্তরের এই সিদ্ধান্তে ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হবে। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বন দপ্তর এর গোটা বিষয়ে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।’
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, ‘এর আগে যখন অনলাইনে এই বনবাংলোগুলির বুকিং দেওয়া হত তখন ২২৪০ টাকা করেই ভাড়া নেওয়া হত। মাঝে কিছুটা দাম কমানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সংস্কারের পর আগের হারেই টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
