পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: পুজোর মুখে পর্যটকদের জন্য সুখবর নিয়ে এল গরুমারা জাতীয় উদ্যান (Gorumara)। দুই গন্ডারের দুই শাবকের জন্ম হয়েছে দিন দশেক আগে। তাই জঙ্গল সাফারিতে গিয়ে মা গন্ডারের সঙ্গে এবার দুই ছোট্ট ছানার দেখা পেতেই পারেন পর্যটকরা।
১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জঙ্গল খুলছে। পুজো পর্যটনের কথা মাথায় রেখে এবার হাতিকে স্নান করানোর সুযোগ থাকছে সাধারণ পর্যটকদের জন্যও। এতদিন ধূপঝোরায় রাত কাটাতেন যাঁরা শুধু তাঁদের জন্যই এই ব্যবস্থা ছিল।
পুজোর মুখে জঙ্গল খুলে যাওয়ার আগেই গরুমারার জঙ্গলে দুই নতুন অতিথির আবির্ভাবে বন দপ্তরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জঙ্গলের কোর এলাকায় দুই মা গন্ডারের সঙ্গে গুটিগুটি পায়ে দুটি শাবককে ঘুরতে দেখে উচ্ছ্বসিত টহলরত বনকর্মীরা। দুই মা এবং তাদের সন্তানদের উপর কড়া নজর রাখছেন তাঁরা। জঙ্গলের দরজা খুললে গরুমারায় নতুন অতিথিদের দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমাবেন বলেই মনে করছে বন দপ্তর। খুশির জোয়ার এসেছে স্থানীয় পর্যটন মহলেও।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানে সাম্প্রতিক শুমারিতে ৬১টি গন্ডারের হদিস মিলেছিল। নতুন দুই শাবকের জন্ম হওয়ায় এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ৬৩। গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন জানান, তিন মাস জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয় বন্যপ্রাণীদের প্রজনন ও জঙ্গলের বেড়ে ওঠাকে লক্ষ রেখে। আমাদের বনকর্মীরা গরুমারার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে টহল দেওয়ার সময় নতুন দুই শাবককে তাদের মায়েদের সঙ্গে দেখতে পান। গরুমারার ক্ষেত্রে নতুন শাবকের জন্ম হওয়ার খবর গন্ডারের বংশবৃদ্ধির দিক থেকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে গরুমারার কোন কম্পার্টমেন্টে নতুন অতিথিরা রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সেই এলাকার নাম এখনই জানাতে চাইছে না বন্যপ্রাণ বিভাগ।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানের যাত্রাপ্রসাদ ওয়াচ টাওয়ারে ডে ভিজিট এবং ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে হাতি সাফারির চাহিদা পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি। কারণ এই দুই জায়গায় বেড়াতে গেলে গন্ডারের দেখা পাওয়া না কি নিশ্চিত। সেদিক থেকে নতুন শাবকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পর্যটন ব্যবসায়ীরাও যারপরনাই খুশি হয়েছেন। ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্পকে এলিফ্যান্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলছে বন্যপ্রাণ দপ্তর। এখানকার পিলখানায় হাতির সঙ্গে সেলফি (এলফি) তোলা থেকে হাতিকে নদীতে স্নান করানোর অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র ধূপঝোরার কটেজে থাকা পর্যটকরাই পেয়ে থাকেন। কিন্তু ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা অন্য পর্যটকরা ধূপঝোরায় হাতিকে স্নান করানোর অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত সাধারণ পর্যটকদের কাছে যেন এই অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই দাবি করা হয়েছিল পর্যটক মহল থেকে। ডিএফও বলেন, ‘ধূপঝোরায় সাধারণ পর্যটকের জন্য হাতিকে স্নান করানোর অভিজ্ঞতা চালু করার জন্য আমরা রাজ্য থেকে অনুমতি চেয়েছিলাম। সেই অনুমতি পেয়েছি। খুব শীঘ্রই সাধারণ পর্যটকরাও এই অভিজ্ঞতার শরিক হতে পারবেন।
ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিব্যেন্দু দেব বলেন, ‘নতুন গন্ডার শাবকের জন্ম হওয়ার খবর খুবই খুশির। পর্যটকরা এখন গরুমারায় জঙ্গল সাফারি থেকে ধূপঝোরায় এলিফ্যান্ট সাফারি বেশি পছন্দ করেন। পুজোর কয়েকদিন আগেই জঙ্গল খুলে যাচ্ছে। এবার গন্ডার শাবক দেখতে যাত্রাপ্রসাদ ওয়াচ টাওয়ার সহ গরুমারার অন্য পয়েন্টেও পর্যটকদের বেড়ানোর চাহিদা বাড়বে।
গরুমারার গন্ডারদের একটি করে নাম রয়েছে। তবে, অনেকদিন ধরেই নামকরণের কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন দুই অতিথির মায়েদেরও নামকরণ হয়নি। সেই প্রক্রিয়া আবার চালু করার দাবিও উঠেছে।
