শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি: গরুমারা জাতীয় উদ্যানের (Gorumara) দুটি গন্ডারের লড়াই (Rhino struggle) এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন দপ্তরের কাছে। কখনও এলাকা দখল, আবার কখনও সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে গন্ডার দুটি। তাছাড়া লড়াই করতে করতে জঙ্গল ছেড়ে প্রায়শই লোকালয়ে চলে আসছে গন্ডারগুলি। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, ঠিক তেমনই গন্ডারগুলিকে জঙ্গলে ফেরাতে কালঘাম ছুটছে বনকর্মীদের।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে প্রায় ৬০টি গন্ডার রয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী ও পুরুষ গন্ডারের অনুপাতের কমবেশি রয়েছে। ফলে প্রজনন মরশুমে সঙ্গিনী দখলকে কেন্দ্র করে পুরুষ গন্ডারদের মধ্যে লড়াই নতুন নয়। গত সপ্তাহে এমনই এক সংঘর্ষে মৃত্যু হয় একটি গন্ডারের। এরই মধ্যে গত তিন-চারদিন ধরে গরুমারার মেদলা নজরমিনার সংলগ্ন এলাকায় দুটি গন্ডার এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে একাধিকবার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। একটি গন্ডার বারবার জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। গত বুধবার বিট এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলঢাকা নদী ও মূর্তি নদী পার হয়ে সেটি যাদবপুর চা বাগান এলাকায় ঢুকে পড়ে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে গন্ডারটিকে আবার জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে লড়াই করতে করতে গন্ডার যাতে লোকালয়ে চলে না আসে সেজন্য বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বন দপ্তর। কুনকি হাতির সাহায্যেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বন দপ্তরের মূল লক্ষ্য, এই সংঘর্ষে যাতে আর কোনও গন্ডারের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের সাউথ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিয়ার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস বলছেন, ‘পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হয়েছে। আপাতত স্বস্তির বিষয়, লড়াই চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও গন্ডার গুরুতরভাবে আহত হয়নি।’
