উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বকাপের মঞ্চে চলছে এক অন্যরকম দ্বৈরথ। লিওনেল মেসি আর কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন একে অপরকে বারবার উসকে দিচ্ছেন গোল করার নেশায় (Golden Boot)। এমবাপ্পে এগিয়ে গেলে মেসি গোল করছেন, আবার মেসি এগোলে এমবাপ্পে পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন দখলের এই লড়াই এখন তুঙ্গে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে স্পষ্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন এমবাপ্পে। এই ম্যাচ শেষে চলতি বিশ্বকাপে ফরাসি তারকার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে, যেখানে মেসির নামের পাশে রয়েছে ৮ গোল। পাশাপাশি এমবাপ্পের ৪টি অ্যাসিস্টও রয়েছে। বিশ্বকাপে মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ভেঙে এমবাপ্পে এখন ২২ গোল নিয়ে এককভাবে তালিকার শীর্ষে। তবে এই রেকর্ড ভাঙার লড়াইয়েও মেসির স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নামার সুযোগ থাকায় সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
রেকর্ডের এই লড়াইকে দুজনেই নিচ্ছেন ইতিবাচকভাবে। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, “লিও সব সময় গোল করে। আজ রাতের ফাইনালেও সে নিশ্চয়ই গোল পাবে।” দর্শকদের জন্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দারুণ উপভোগ্য হলেও, এমবাপ্পের মন পড়ে আছে অন্য কোথাও। বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও, ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ তার কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল।
এমবাপ্পে অকপটে জানান, ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলেন, “আমি ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আগামীকালের ফাইনাল ম্যাচটি খেলতে পারাটাকেই বেছে নিতাম। ব্যক্তিগত অর্জন বা লিগ্যাসির আলোচনার চেয়ে ফাইনালে খেলার গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি।”
তবে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যকে বড় করে দেখছেন এমবাপ্পে। গোল্ডেন বুট কিংবা সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডের চেয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, আজ রাতের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে মেসি তাঁর রেকর্ডগুলো পুনরায় নিজের করে নিতে পারেন কি না। মাঠের লড়াইয়ে গোলের এই উসকে দেওয়া প্রতিযোগিতা ফুটবলপ্রেমীদের দিচ্ছে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার স্বাদ।

