গাজোল: চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় নাম ছিল গাজোলের (Gazole) রামকৃষ্ণপল্লী এলাকার বাসিন্দা শুক্লা বিশ্বাসের। চোখের সমস্যা নিয়েও আদালতের নির্দেশে এবারের পরীক্ষাতেও বসেছিলেন শুক্লা। কিন্তু ১ নম্বরের জন্য পাস করতে পারেননি। ফলে চলে গেছে চাকরি। একমাত্র রোজগেরে হিসেবে গোটা পরিবারের ভার ছিল তার উপরে। এখন কিভাবে সংসার চালাবেন, কিভাবেই বা ব্যাংকের লোন শোধ করবেন তা ভেবে ঘুম উড়েছে শুক্লার।
২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি পেয়ে বাংলার শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন গোবিন্দপুর হাইস্কুলে। রবিবার তিনি বলেন, ‘তিন বোনের মধ্যে আমি সবথেকে বড়। বাবা তারক বিশ্বাস অসুস্থ। মা সুচিত্রা বিশ্বাসও পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। মেজ বোন মঞ্জুও অসুস্থ। একসময় মা সুচিত্রা বিশ্বাস লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে আমাদের তিন বোনকে বড় করেছিলেন। এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর চাকরি পেয়েছিলাম। বাংলার শিক্ষিকা হয়ে যোগ দিয়েছিলাম গোবিন্দপুর হাইস্কুলে। বাবা মাকে পাকা বাড়িতে রাখবো বলে ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলাম প্রায় ২৮ লাখ টাকা। ভালোভাবেই চলছিল সংসার। কিন্তু সুপ্রিম রায়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে আমাদের। চোখের গুরুতর সমস্যা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরে আবার এসএসসি পরীক্ষায় বসেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক নম্বরের জন্য চাকরি হাতছাড়া হয়েছে আমার। এখন ব্যাংকের কিস্তির টাকা দেওয়া তো দূর অস্ত, দু’বেলা দুমুঠো খাবার কীভাবে জোগাড় করবো তা ভেবেই আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে।’
এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর কাতর আবেদন, ‘হয় চাকরি দিন, না হলে এক শিশি বিষ দিন। বিষ পান করে পরিবারের সকলে একসঙ্গে আত্মহত্যা করতে চাই।’ শুক্লার মা সুচিত্রা দেবীও জানান, মেয়ে চাকরি পাওয়ার পর একটু সুখের মুখ দেখেছিলেন। কিন্তু এখন সামনে শুধুই অন্ধকার। ………
