কল্লোল মজুমদার, মালদা: ‘মরিয়াও মরেন নাই তিনি।’ এই প্রবাদবাক্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে বরকত গনি খান চৌধুরীর নাম। প্রায় ১৯ বছর আগে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু এখনও তিনি যে জেলা কংগ্রেসের নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম মুখ, তা আর অস্বীকার করতে পারছে না দলের জেলা নেতৃত্ব। আগামী ১ নভেম্বর গনি খান চৌধুরী জন্মদিন। তাই ’২৬-এর ভোটের প্রচার শুরু করার ক্ষেত্রে দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে জেলা কংগ্রেসের তরফে। কোনও রাখঢাক না করে কংগ্রেসের মালদা জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরী বলছেন, ‘এবার বরকতদার জন্মদিন আমাদের কাছে স্পেশাল। এবছর একটু বড় করে পালন করব দিনটি। ওইদিন থেকেই আমরা প্রচার শুরু করে দেব। রাজ্যের অনেক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
উত্তরের রাজনীতিতে গনি খান চৌধুরী অন্যতম ব্যক্তিত্ব। অন্তত কংগ্রেসের কাছে। যে কারণে ১৯২৭ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া গনি খান ২০০৬ সালের ১৪ এপ্রিল মারা যাওয়ার পরেও প্রতিটি ভোটে প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। ’২৬-এর ভোটেও যে তাঁকে সামনে রেখে জেলা কংগ্রেস লড়বে, তার আভাস মিলছে এখন থেকেই। তাঁর জন্মদিনে কী কী কর্মসূচি থাকছে? জেলা কংগ্রেসের অন্যতম নেতা তথা মানিকচকের প্রাক্তন বিধায়ক মোত্তাকিন আলম বলছেন, ‘ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় কোতুয়ালির বাসভবনে বরকতদার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সেখানে সর্বধর্ম প্রার্থনা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় মালদা শহরের রথবাড়ি এবং বৃন্দাবনি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় থাকা বরকতদার দুটি মূর্তিতে মাল্যদান করা হবে। শেষে মালদা টাউন হলে স্মৃতিচারণ সভা করা হবে।’
এই মুহূর্তে রাজ্যে কংগ্রেসের ঝান্ডা একমাত্র ধরে রেখেছেন ইশা৷ তিনি ছাড়া এই রাজ্যে হাত শিবিরের কোনও জনপ্রতিনিধি নেই৷ ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি যে প্রয়াত মামাকে ভিত্তি করেই মালদা জেলায় দলকে আবার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দ্বিমত নেই৷ কিন্তু মৃত্যুর এত বছর পরেও কি প্রয়াত বরকত গনি খান এই জেলায় কোনও নির্বাচনের ফ্যাক্টর হতে পারেন? উত্তর মিলেছে তৃণমূলের জেলা স্তরের এক নেতার কথায়৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতার বক্তব্য, ‘বর্তমানে মালদা জেলায় তৃণমূলকে যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বরকত সাহেবকে দেখে রাজনীতি করছেন৷ এখনও প্রয়াত নেতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে তাঁদের বুক কাঁপে৷ সে কারণে নির্বাচনি জনসভা হোক কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক সভা, জেলার একজন তৃণমূল নেতাও বরকত গনি খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মন্তব্যও করেন না৷ এমনকি রাজ্য থেকে আসা দলীয় নেতা-নেত্রীরাও এই বিষয়টিকে মাথায় রাখেন৷ এতেই বোঝা যায়, মৃত্যুর এত বছর পরেও তিনি কেন এই জেলার যে কোনও ভোটে বড় ফ্যাক্টর৷’
