রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: শীতের কামড় ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে, আর উষ্ণতার পারদ প্রতিদিনই হচ্ছে একটু একটু করে ঊর্ধ্বমুখী। এই আবহেই ভিনরাজ্যে গঙ্গারামপুরের (Gangarampur) মাটির ফিল্টারের চাহিদা গত কয়েক বছরের মতো এবারেও আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। সেই বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন গঙ্গারামপুরের মৃৎশিল্পীরা। নিখুঁত কারুকাজে সুদৃশ্য মাটির ফিল্টার তৈরি করে তাঁরা যেমন ভিনরাজ্যের বাজারে সুনাম কুড়োচ্ছেন, তেমনি এই শিল্পকে ঘিরে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের মুখও দেখছেন। পরিশ্রম, ঐতিহ্য ও দক্ষতার মেলবন্ধনে গঙ্গারামপুরের মাটির শিল্প আজ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
গঙ্গারামপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিহাট এলাকাজুড়ে শতাধিক মৃৎশিল্পীর বসবাস। তাঁদের একাংশ সম্প্রতি অন্য সাধারণ মাটির পাত্র তৈরির পরিবর্তে, সুদৃশ্য আধুনিক ডিজাইনের মাটির ফিল্টার তৈরি করছেন। সেই মাটির ফিল্টার ভিনরাজ্যে রপ্তানি করায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নাগপুর, কানপুর, ভোপাল, ওডিশা, লখনউতে গঙ্গারামপুরের মাটির ফিল্টারের চাহিদা গত কয়েক বছরে ব্যাপক বেড়েছে।
এবিষয়ে মৃৎশিল্পী সমর পাল বলেন, ‘আগে আমরা সাধারণত বিভিন্ন মাটির পাত্র তৈরি করতাম। সেসব ভালো বিক্রি হত না। এরপর আমাদের এখানকার বেশকিছু মৃৎশিল্পী শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থেকে আধুনিক ডিজাইনের মাটির ফিল্টার তৈরি করা শেখেন। তারপরে আমাদের এলাকায় সেসব তৈরি করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বাজারে সেই মাটির ফিল্টারের চরম চাহিদা দেখা যায়। এরপর আমরাও সেই কাজে যুক্ত হয়েছি।’ বর্তমানে সেখানকার মৃৎশিল্পীদের একটা বড় অংশ মাটির ফিল্টার তৈরি করে যথেষ্ট লাভের মুখ দেখছে বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে মৃৎশিল্পী অচিন্ত্য পাল জানান, প্রথমে তাঁরা মাটির ফিল্টার পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি করেছিলেন। এরপর বাইরের রাজ্যে রপ্তানি করে এর ব্যাপক চাহিদা দেখতে পান। সেইমতো তাঁরা বছরের বেশিরভাগ সময় মাটির ফিল্টার তৈরি করেন। ফাল্গুন, চৈত্র্য, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ এই চার মাস এই মাটির ফিল্টারের চূড়ান্ত চাহিদা থাকে। ভিনরাজ্যের সেই চাহিদা মেটাতে শীতকাল থেকে তাঁরা মাটির ফিল্টার তৈরি ও রপ্তানি শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এবছর গুজরাটের ডিজাইনের মাটির ফিল্টার তৈরি করা হচ্ছে। এই নতুন ডিজাইনের চাহিদা বাজারে যথেষ্ট রয়েছে।’
এবিষয়ে মৃৎশিল্পী রত্ন পাল জানান, তাঁদের এখানকার তৈরি মাটির ফিল্টারের নাগপুর, কানপুর, ভোপাল, ওডিশা, লখনউতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি মাটির ফিল্টার ২৫০-৩০০ টাকা পাইকারি দরে তাঁরা বিক্রি করছেন। কখনও নিজেরাই বাইরে রপ্তানি করে দিচ্ছেন, আবার কখনও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাইরের রাজ্যে রপ্তানি করছেন। তাঁর কথায়, ‘অর্থনৈতিকভাবে আমরা আগের থেকে অনেক বেশি সচ্ছল হয়ে উঠেছি। আমাদের এই মাটির পাত্র সঠিকভাবে বাজারজাত করা হলে আগামীতে দেশজুড়ে এর চাহিদা ক্রমশ বাড়বে বলেই আমাদের আশা।’
