গঙ্গারামপুর: উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারের পড়ুয়াদের ফর্ম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল গঙ্গারামপুর ব্লকের ঠ্যাঙ্গাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার দরুন বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা। যদিও পরবর্তীতে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, পর্ষদের নির্ধারিত ফি-র বাইরেও পড়ুয়াদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। পড়ুয়ারা তার প্রতিবাদ করায় কিছুটা ফি কমাতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। আন্দোলন করায় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করছে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা।
তবে এই বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। সমস্ত টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। কাউন্সিলের নির্দেশের বাইরে স্কুল কখনোই বেশি টাকা নিতে পারেন না এমন মন্তব্য করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ডিআই(মাধ্যমিক) দেবাশীষ সমাদ্দার।
ঘটনা প্রসঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী বলেন, “পোর্টালে দেখাচ্ছে ২৫০ টাকা করে ফি জমা করতে হবে। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা আমরা কেন দেব?”
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কথরু চন্দ্র রায় বলেন, “বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে এটা আপনাদের ভ্রান্তধারণা। ওরা যে রশিদ ডিএম অফিসে পাঠিয়েছে, সেটা সব রশিদ পাঠায়নি। আমাদের ফাংশনের জন্য ৪০ টাকা, সরস্বতী পুজোর জন্য ৩০ টাকা, ল্যাব উন্নয়নের জন্য ৩০ টাকা নেওয়া হয়। সেই রশিদ ওরা পাঠায়নি। এই নিয়ে রানিং কস্ট ৩০০ টাকা এবং পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা। বোর্ডের বেধে দেওয়া চার্টের বাইরেও আমাদের একটা চার্ট আছে, যেটা ছাত্রছাত্রীরা দেখেনি। কোন এক্সাম সেন্টারে কত টাকা নেবে সেটা এখনও আমরা জানি না। শুনেছি ৭৫ টাকা নেবে। থার্ড সেমিস্টারে যারা ফেল করেছে তাদের অতিরিক্ত ৫০ টাকা দিতে হবে। সেটা ছাত্র-ছাত্রীরা জানে।”
তিনি আরো বলেন, “তবে টাকার বিনিময়ে কাউকে বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই। কিন্তু কারও কাগজপত্রে কোনও ভুল হলে কাউন্সিলে দৌড়াদৌড়ির জন্য আমাদেরকে যেতে হবে। তাহলে সেই খরচটা কে দেবে? আমি ওদেরকে বলেছি কোনও ভুল হলে তোমরা নিজেরা যদি সেটা সংশোধনের দায়িত্ব নাও, তাহলে তোমরা ৩০০ টাকা করে দাও। ২১৫ প্লাস ৭৫, এই নিয়ে ২৯০। ১০ টাকা রিটার্ন করা সমস্যা আছে। তাই ৩০০ টাকার কথা বলা হয়েছে। যে টাকা থাকবে তা স্কুল ফান্ডেই থাকবে।”
