গঙ্গারামপুর: জল্পনা সত্যি করে অবশেষে গঙ্গারামপুর (Gangarampur) পুরসভার পুর প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গঙ্গারামপুর পুরসভার পুর প্রধান প্রশান্ত মিত্র। সোমবার বিকেলে মহকুমা শাসকের দপ্তরে ইমেল মারফত নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন প্রশান্ত মিত্র (Prashanta Mitra)। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্তবাবু জানান, “গত ৪ তারিখে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসবার পর আমি নিজে পুর প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ভাবছিলাম। এর মধ্যে বেশিরভাগ কাউন্সিলররা পদত্যাগ করে ফেলেছেন। ফলে যাঁদের সমর্থনে আমি পুরপ্রধান হয়েছি, তাঁরাই যদি না থাকেন, তাহলে আমার পদে থাকার কোনও মানে হয় না। রাজনীতিতে (Politics) সকলের জন্য জায়গা ছাড়তে হয়। আগামী দিনে পুরসভা পরিচালনার জন্য যদি বর্তমান সরকার বা পুর কর্তৃপক্ষের কোনওরকম সহযোগিতা লাগে, আমার পক্ষ থেকে সামগ্রিক সহযোগিতা করা হবে।”
আগামী দিনে দলবদল করবে কিনা সেই প্রসঙ্গে প্রশান্ত বাবু বলেন, “দলবদলের চিন্তা-ভাবনা এখনও মাথায় নেই। পরবর্তীতে কি হবে বলতে পারছি না। রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি দল করে এসেছি, সেই দলের পাশে এখনও আছি।”
অন্যদিকে, ইস্তফাপত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসক অভিষেক শুক্লা। প্রসঙ্গত উল্লেখ, সম্প্রতি রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকে তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড ভেঙ্গে যাবার একটি জল্পনা চলছিল। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি গঙ্গারামপুর রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে উপ-পুরপ্রধান জয়ন্ত দাসকে চোর স্লোগান শুনতে হয়। সেইসঙ্গে কাদা মাখানো হয় তাঁকে। এই ঘটনার পর গত ১৬ই জুন প্রথম দফায় দশ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ পত্র জমা দেন। পরে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর পুর বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই আবহে সোমবার বিকেলে ইস্তফা দেন পুরপ্রধান প্রশান্ত মিত্র। আগামী দিনে পুরসভাকে সচল রাখতে পুর প্রশাসক বসানো হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
এবিষয়ে বিজেপির গঙ্গারামপুর শহর মন্ডল সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, “সিংহভাগ কাউন্সিলর যখন পদত্যাগ করেছেন, তখন পুরপ্রধান আর কোন শক্তির বলে ক্ষমতা দখল করে থাকবেন? নিজে থেকে ইস্তফাপত্র দেওয়ার ফলে তাঁর সম্মান বাঁচলো। আগামী দিনে প্রশাসক বা পুর আইনের মাধ্যমে পুরসভা পরিচালনা করা হবে।”

