অনুপ সাহা, জলপাইগুড়ি ও ওদলাবাড়ি: জরুরি সংস্কার চলছে তিস্তা ব্যারেজ (Teesta Barrage) সেতুর (Gajoldoba)। অগাস্ট শেষ হওয়ার আগেই সেতু খোলা হতে পারে বলে জেলা শাসক সম্প্রতি জানিয়েছেন। সেতুর ওপর দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের অনুমতি আগামী সপ্তাহের যে কোনও দিন দেওয়া হতে পারে। তবে ডাম্পার চলাচলের অনুমতি এখনই দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেতু খুলে দেওয়ার কথা জেলা শাসক বললেও ডাম্পার নিয়ে কোনও মন্তব্য তিনি করেননি। তবে সাধারণ মানুষ চাইছেন ডাম্পার চলাচল বন্ধ থাকুক।
শুক্রবার পুনরায় বিষয়টি নিয়ে জেলা শাসক শামা পারভিন বললেন, ‘গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজ সেতু এ মাসে খুলে দেওয়া হবে। টেকনিকাল কমিটির রিপোর্ট এলে কবে খুলবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
শিলিগুড়ি গেটবাজারের ব্রিজকিষান সিং এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত ক্রান্তি যাতায়াত করেন। তিনি বললেন, ‘একবার সেতু সংস্কারের জন্য ১২০-১২৫ দিন ভুগতে হচ্ছে। ভারী ডাম্পার চলার পর পুনরায় সেতুর ক্ষতি হলে তখন যে কতদিন ভুগতে হবে কে জানে? তার চেয়ে ডাম্পার এই মুহূর্তে বিকল্প যে পথে চলছে, সেই পথে চলুক। গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা ব্যারেজ সেতু দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করাই ভালো।’
সেচ দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত শুধুমাত্র চার চাকার ছোট গাড়ি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যারেজ সেতুর ওপর দিয়ে চলতে দেওয়া হবে। লোডেড ডাম্পার বা অন্য ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সবদিক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে জেলা প্রশাসন। এতেই আশঙ্কার কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে ডাম্পার মালিকদের মধ্যে। ডাম্পার মালিকরা সমস্ত নিয়ম মেনে ডাম্পার চালানো হবে বলে জানিয়েছেন। তবে এই রাস্তার নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে ছোট গাড়ির চালক সকলেই জানিয়েছেন, সেতুর ভারবহন ক্ষমতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের কথা।
চলতি বছর এপ্রিলের ২৭ তারিখ থেকে সেতুর ওপর দিয়ে সমস্ত ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে ব্যারেজ সেতুর জরুরি সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। যদিও সেতুর ওপর দিয়ে ভারী ডাম্পার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল গতবছর পুজোর আগে থেকে। এদিকে নির্ধারিত ১৪০ দিন সময়সীমার আগেই সেতু সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা।
যদিও ওদলাবাড়ি টিপার মালিক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রবণকুমার গুপ্তার কথায়, ‘গত প্রায় এক বছর ধরে ব্যারেজ সেতু পেরিয়ে বালি, পাথরের ডাম্পার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার ফলে অনেকটা ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। পরিবহণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে মালিকদের।’ গজলডোবা ডাম্পার মালিকদের সংগঠনের সম্পাদক রঞ্জন বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, সেতু খুলে দেওয়ার সময় গজলডোবা, ওদলাবাড়ির প্রায় পাঁচ শতাধিক ডাম্পার মালিকের দুর্দশার কথাও বিবেচনায় রাখুক প্রশাসন।’
সংস্কার শেষে তিস্তা ব্যারেজ সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর এবিষয়ে যাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন, তিস্তা ব্যারেজের সেই সমস্ত ইঞ্জিনিয়ার মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জেলা প্রশাসনের তরফেও এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফোন বা মেসেজের জবাব দেননি তিস্তা ব্যারেজের পদস্থ ইঞ্জিনিয়াররা।
