অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি: লেপচা দুর্গ ডালিম ও দামসাং ফোর্টের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে দুর্গ (Fort) দুটি সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে ন্যাশনাল হেরিটেজ কমিশনের (Nationwide Heritage Fee) সুপারিশ মেনে আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে। শনিবার বিষয়টি খোলসা করেছেন লেপচা কালচারাল ও ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা কালিম্পংয়ের বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা। রুদেন জানান, ন্যাশনাল হেরিটেজ কমিশনের সুপারিশ মেনে গরুবাথানের অদূরে ডালিম ও দামসাং দুর্গ দুটি সংরক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য যথাক্রমে পাঁচ কোটি ও চার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। দুর্গ দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিচার করে সম্ভাব্য সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হবে।
সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধ্বে ভুটানের রাজা নামগিয়ালের আগ্রাসন থেকে লেপচাদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তিব্বতের সাহায্য নিয়ে লেপচাদের গড় বলে পরিচিত ডালিম ও দামসাংয়ের পাহাড় চূড়ায় দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন লেপচা রাজা পানো গ্যাবো আচিওক। শুরুতে ভুটানি আগ্রাসন প্রতিরোধে সফল হলেও পরে বন্ধুত্বের ছলচাতুরী করে ১৬৭৬ সালে লেপচা রাজা পানো গ্যাবো আচিওকের মুণ্ডুচ্ছেদ করে চেল নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই গরুবাথানের অদূরে ডালিম ও দামসাং দুর্গ দুটি লেপচা জনজাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার কালিম্পংয়ের মেলা গ্রাউন্ডে সেই প্রক্রিয়া লেপচা রাজা পানো গ্যাবো আচিওকরের ২৯৪তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে দুর্গ দুটি সংরক্ষণ নিয়ে এই মন্তব্য করেন রুদে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক সামগ্রিকভাবে লেপচা জনজাতির উন্নয়নে কালিম্পং জেলার চারকোলবস্তিতে নতুন করে রাজ্য সরকার পরিচালিত একটি একলব্য স্কুল চালু করার উদাহরণ তুলে ধরেন। আপাতত অস্থায়ীভাবে স্কুলটি চালু হলেও ইতিমধ্যেই এই স্কুল ভবন নির্মাণে রাজ্য সরকারের তরফে ৪৪ কোটি আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। যদিও কালিম্পংয়ের সদ্য নিযুক্ত জেলা শাসক কুহুক ভূষণ বলেন, ‘সদ্য দায়িত্বগ্রহণ করেছি। নথিপত্র সব কিছু খতিয়ে দেখে তবেই মন্তব্য করতে পারব।’ কালিম্পংয়ের মেলা গ্রাউন্ডে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেপচা জনজাতির নারী-পুরুষরা তাঁদের চিরাচরিত পোশাকে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
