উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক পুষ্টির মধ্যে। চিকিৎসকেরা সাধারণত অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি৯ খাওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু এই উপাদানটি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যই অপরিহার্য (Folic Acid)। শরীর নিজে এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে না, তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার মাধ্যমেই এর অভাব পূরণ করতে হয়।
কেন জরুরি ফলিক অ্যাসিড?
শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই পুষ্টিগুণ প্রয়োজন:
কোষ ও ডিএনএ গঠন: কোষ বিভাজন এবং ডিএনএ তৈরিতে এর ভূমিকা অপরিসীম।
রক্তাল্পতা রোধ: এটি সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি কমায়।
মস্তিষ্কের সুরক্ষা: স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে এটি সহায়ক।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: রক্তে হোমোসিস্টিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে হার্ট সুস্থ রাখে।
শিশু সুরক্ষা: গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক বিকাশে এটি প্রধান ভূমিকা নেয়।
ভিটামিন বি৯-এর অভাব মেটাতে ডায়েটে রাখতে পারেন এই তিনটি সহজলভ্য ফল:
আম: আম কেবল স্বাদেই নয়, গুণেও সেরা। আমের প্রজাতিভেদে পুষ্টির মাত্রা ভিন্ন হলেও প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৬০ থেকে ১৩৮ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড থাকে, যা এই ভিটামিনের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উৎস।
পেয়ারা: পুষ্টির খনি এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফলিক অ্যাসিড থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় প্রায় ৯১ থেকে ৯৩ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড মেলে। মনে রাখবেন, খোসা বাদ দিয়ে নয়, খোসা সহ পেয়ারা খেলেই পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়।
পেঁপে: হজমশক্তি বাড়াতে পাকা পেঁপের জুড়ি নেই। পাশাপাশি এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপে থেকে শরীর প্রায় ৫৩ থেকে ৬৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি৯ পেতে পারে।
শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী এবং রোগমুক্ত রাখতে কৃত্রিম ওষুধের চেয়ে প্রাকৃতিক উৎস অর্থাৎ এই ফলগুলির ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
