উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup)। উদ্বোধনী ম্যাচেই অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের বিশ্বকাপ বিভিন্ন কারণে অনন্য এবং অভিনব। ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮টি দেশ নিয়ে আয়োজিত এই ফুটবল মহাযজ্ঞ যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩টি দেশে। ম্যাচের সংখ্যা থেকে শুরু করে আয়োজক শহরের তালিকা সব দিক থেকেই এবার রেকর্ডের ছড়াছড়ি। তবে এই চোখধাঁধানো আয়োজনকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে একের পর এক মাঠের বাইরের নিত্যদিনের বিতর্ক (Controversy)। আমেরিকা-ইরান রাজনৈতিক টানাপোড়েন, রেফারিকে দেশে ঢুকতে না দেওয়া কিংবা ফুটবলারদের সঙ্গে জঙ্গির মতো আচরণ। বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে যা অনভিপ্রেত ও নজিরবিহীন। যদিও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো (Infantino) বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই সমস্ত বিতর্ককে স্রেফ ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মহাযজ্ঞ শুরুর আগের সেই সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় ফিফা সভাপতিকে। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার রাজনৈতিক দ্বৈরথ এবং ইরানিদের ভিসা দিতে মার্কিন প্রশাসনের ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হন তিনি। তবে এসব নিয়ে কোনও আক্ষেপ বা অনুশোচনা প্রকাশ করেননি ইনফান্তিনো। উলটো ইরান যে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে, সেটাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখিয়ে পুরো কৃতিত্ব নিজের পকেটস্থ করেছেন তিনি। ফিফা সভাপতির দাবি, “আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকলে এই পরিস্থিতিতে ইরানের খেলা নিশ্চিত করতে পারত কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।”
বিতর্কের তালিকা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আমেরিকার মাটিতে ইরান সমর্থকদের টিকিট না দেওয়া কিংবা স্রেফ সোমালিয়ার বাসিন্দা হওয়ার অপরাধে আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারিকে টুর্নামেন্ট থেকে বঞ্চিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন মুলুকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি সেই রেফারিকে। এমনকি বেশ কয়েকটি দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে বিমানবন্দরে জঙ্গিদের মতো আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই সমস্ত বিষয়ে পিঠ বাঁচাতে ফিফা সভাপতির দায়সারা সাফাই, “সব বিষয় তো আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই কিছু কিছু জিনিস থেকে নিজেদের দূরে রাখাই শ্রেয়।” এখানেই শেষ নয়, সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়েও এক অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছেন ইনফান্তিনো। তাঁর দাবি, টিকিটের দাম কম রাখলে নাকি সেগুলো কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থাকত!
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই সমস্ত নজিরবিহীন বিতর্কের জন্য ফিফা কাঠগড়ায় দাঁড়ালেও, সমালোচকদের আঙুল আসলে অন্য একজনের দিকে। তিনি আমেরিকার বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। অভিযোগ, ট্রাম্পের একগুঁয়েমি এবং অনমনীয় নীতির কারণেই এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে এত বিতর্কের জন্ম হয়েছে। যদিও ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। উলটে ট্রাম্পের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। তাঁর সরাসরি সাহায্য এবং আন্তরিক চেষ্টা না থাকলে আমেরিকার মাটিতে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।” সব বিতর্ককে একপাশে সরিয়ে রেখে ইনফান্তিনো এখন সবাইকে স্রেফ ফুটবল উপভোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন, যদিও মাঠের বাইরের এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আবহকে কতটা মলিন করবে, তা সময়ই বলবে।
