বর্ধমান: পুলিশের পরিচয় দিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে ৬ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ (Faux Police Extortion Rip-off)। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) ভাতারে। সাহেবগঞ্জ-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদ্যুৎ পালকে ফোন করে নিজেকে ভাতার থানার ‘মেজবাবু’ বলে দাবি করে এক ব্যক্তি।
ফোন করে জানানো হয়, প্রধানের বিরুদ্ধে এসপি অফিসে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য উপরমহল থেকে চাপ রয়েছে। গ্রেপ্তারি এড়াতে এবং মামলা থেকে রেহাই দিতে প্রথমে ৬ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। শুধু তাই নয়, টাকা দ্রুত পাঠানোর জন্য একটি কিউআর কোড পাঠানো হয় এবং ভাতারের স্থানীয় বিধায়কের নাম ব্যবহার করেও চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলে। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পঞ্চায়েত প্রধান তৎক্ষণাৎ ওই নম্বরটি ব্লক করেন এবং স্থানীয় বিধায়ক সৌমেন কার্ফা ও ভাতার থানার ওসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিধায়কের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানিয়েছে, যে অফিসারের পরিচয় দিয়ে ফোন করা হয়েছিল, সেই নামে ভাতার থানায় কোনও অফিসার নেই। প্রাথমিক অনুমান, ফোনটি অন্য কোনও জেলা থেকে করা হয়েছে। এদিকে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু অভিযোগ করেছেন, রাজ্যজুড়ে এভাবেই ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি চালানো হচ্ছে। এদিকে, গত কয়েক মাসে পরপর এমন প্রতারণামূলক ফোন আসার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে জোর চর্চা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভাতার থানার পুলিশ।

