উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার (BJP) দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভাকে (Falta) ‘মডেল ব্লক’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করল। সোমবার বিধানসভায় পেশ করা রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (West Bengal Finances 2026) ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিলের পরিমাণ বার্ষিক ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফলতাকে একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ফলতার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে (BPHC) ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। এখানে ‘কম্প্রিহেনসিভ এমার্জেন্সি অবস্ট্রেটিক কেয়ার’-এর ব্যবস্থা থাকায় প্রসূতিদের আর দূরের হাসপাতালে রেফার করার প্রয়োজন পড়বে না। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের অংশ হিসেবে এলাকায় একটি নতুন মহিলা কলেজ তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার ফলতার ফতেপুর ফুটবল গ্রাউন্ডের জনকল্যাণ শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Shuvendu Adhikari) এই প্রকল্পের রূপরেখা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ফলতার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বন্দরভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, দমকল কেন্দ্র স্থাপন এবং নদীভাঙন রোখার মতো একাধিক জনমুখী কর্মসূচি রূপায়ণ করবে রাজ্য। এ ছাড়াও ফলতা থানায় মহিলাদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক ও মহিলা পুলিশ আধিকারিক নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফলতার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল। রোগীর অবস্থা সামান্য জটিল হলেই রেফার করে দেওয়ার প্রবণতা ছিল প্রবল। নতুন এই পদক্ষেপে সেই পরিস্থিতি বদলানোর ব্যাপারে আশাবাদী এলাকাবাসী।
ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা বাজেট ঘোষণার পর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘‘এতদিন যা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল, আজ তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ফলতাকে যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ।’’ অতীতে আলোচিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর বিপরীতে শুভেন্দু সরকারের এই ‘ফলতা মডেল’ রাজনৈতিক মহলে এখন চর্চার কেন্দ্রে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন পরিকাঠামো তৈরির জন্য জমি চিহ্নিতকরণ ও ডিপিআর তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

