Falakata Elephant Assault | চিতাবাঘ নয়, এবার সরাসরি হাতির সঙ্গে লড়াই! অষ্টমীর রাতে বুনোর শুঁড়-দাঁত সামলে প্রাণে বাঁচলেন ফালাকাটার যুবক

শিক্ষা
Spread the love


ফালাকাটা: চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরার কাহিনি শোনা গেলেও হাতির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন—এমন রোমহর্ষক ঘটনা জলদাপাড়া বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বিরল বললেই চলে (Falakata Elephant Assault)। আর ঠিক এমন এক ব্যতিক্রমী ও অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে পুজোর মরসুমে। মহাষ্টমীর রাতে জলদাপাড়া জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি বন্য দাঁতাল হাতি সোজা ঢুকে পড়ে ফালাকাটা ব্লকের খাউচাঁদপাড়া গ্রামে। হাতির সামনে পড়ে যাওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও অসীম সাহসিকতায় দাঁতালটির সঙ্গে লড়ে প্রাণে বেঁচেছেন অর্জুন বিশ্বশর্মা নামের এক যুবক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত বারোটা নাগাদ অর্জুনের বাড়ির বাইরে একটি গোরু বাঁধা ছিল। বাড়ির বাইরে কিছু শব্দ পেয়ে সেই গোরুটিকে ঘরে ঢোকাতে বাইরে বের হন ৩৫ বছর বয়সি অর্জুন। হাতে সার্চলাইট নিয়ে বাইরে আসতেই তিনি দেখতে পান, ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বিশাল দাঁতাল হাতি। মুহূর্তের মধ্যে চমকে গিয়ে তিনি দৌড়ে বাড়ির উঠোনে আসেন, কিন্তু হাতিটিও তাঁর পিছু ধাওয়া করে।

উঠোনেই হাতির সামনে পড়ে যান অর্জুন। সেই মুহূর্তে নিজের মৃত্যু অবধারিত বুঝতে পেরেও দমে যাননি তিনি। উল্টে চরম সাহসিকতার সঙ্গে হাতির মুখোমুখি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দাঁতালটি তাঁকে দাঁত দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করতেই অর্জুন সাহসিকতার সঙ্গে হাতির দাঁত শক্ত করে ধরে তার ঝুলে পড়েন এবং হাতির দাঁত ধরেই বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যান। এরপর হাতিটি এক ঝটকায় তাঁকে দূরে ফেলে দেয়।

আহত হওয়ার পরেও অর্জুন ঘরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় হাতিটি শুঁড় দিয়ে তাঁকে ফের সজোরে ধাক্কা মারে, ভেঙে ফেলে ঘরের বেড়া এবং বাড়ির টিউবওয়েলটি মুচড়ে দু’টুকরো করে দেয়। এদিকে স্বামীর এই অবস্থা দেখে ঘরের ভেতর থেকে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করেন অর্জুনের স্ত্রী বুল্টি বিশ্বশর্মা। সঙ্গে ছিল তাঁদের সাত বছরের শিশুপুত্র ধ্রুব বিশ্বশর্মা। বুল্টির আর্তনাদে মুহূর্তের মধ্যে প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা ছুটে এসে চারদিক থেকে বাজিপটকা ফাটাতে শুরু করলে দাঁতাল হাতিটি অবশেষে জঙ্গল অভিমুখে পালিয়ে যায়।

হাতির সঙ্গে সরাসরি এই লড়াইতে বুকে, হাতে, পায়ে ও মাথায় গুরুতর চোট পান অর্জুন বিশ্বশর্মা। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই দ্রুত অর্জুনের বাড়িতে ছুটে আসেন বন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। তাঁদের উদ্যোগেই জখম অর্জুনকে দ্রুত উদ্ধার করে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত যুবকের সমস্ত চিকিৎসার ব্যয়ভার দপ্তর বহন করবে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *