Falakata Char Torsa Bridge | ৯ বছরের ভোগান্তির অবসান! সপ্তমীর সকালে চালু হলো আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা মহাসড়কে চরতোর্ষা নদীর পাকা সেতু

শিক্ষা
Spread the love


ফালাকাটা: ফালাকাটা থেকে আলিপুরদুয়ারের সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার নির্মীয়মাণ ৪-লেন মহাসড়কে দীর্ঘ ৯ বছরের অন্যতম বড় অভিশাপ ও ভোগান্তির কেন্দ্রবিন্দু ‘চরতোর্ষা ডাইভারশন’-এর অবশেষে অবসান ঘটল (Falakata Char Torsa Bridge)। শনিবার সপ্তমীর সকালেই চরতোর্ষা নদীর ওপর নির্মিত দুটি পাকা সেতুর মধ্যে উত্তরদিকের একটি সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)। এর ফলে এবারের পুজোয় আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটাবাসীকে আর যাতায়াতে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রবল বর্ষণে চরতোর্ষা নদীর পুরনো কাঠের সেতুটি ভেসে যায়। এরপর ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর বা চার লেনের মহাসড়কের পরিকল্পনা থাকায় সেখানে আর নতুন করে কাঠের সেতু না বানিয়ে হিউম পাইপ বসিয়ে অস্থায়ী ডাইভারশন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষার বৃষ্টিতে সেই ডাইভারশন ভেঙে গিয়ে বা প্লাবিত হয়ে দিনর পর দিন ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।

জমি জটিলতা ও নানা কারণে মহাসড়কের সঙ্গে সেতুর কাজও পিছিয়ে যায়। এই বেহাল ডাইভারশনের জেরে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা—বাবা-মায়ের সঙ্গে বাইকে যাওয়ার সময় ডাইভারশন থেকে নদীতে ছিটকে পড়ে সাত মাসের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যার করুণ মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর এলাকা চরম উত্তাল হয়ে উঠলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের এবং পাকা সেতুর কাজে গতি আনা হয়।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই একটি করে পাকা সেতু চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো বুড়িতোর্ষা, গিরিয়া ও সনজয় নদীর একটি করে সেতু আগেই চালু করা হলেও চরতোর্ষার সেতুর কাজটি বাকি ছিল। সপ্তমীর সকালেই সেই উত্তরদিকের সেতুটি চালু করে দেওয়া হলো। পাশাপাশি দ্বিতীয় সেতুটির নির্মাণকাজও জোরকদমে চলছে।

ডাইভারশন ও সেতু চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসা ‘মহাসড়ক গণসংগ্রাম কমিটি’-র যুগ্ম সম্পাদক বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, “চরতোর্ষায় একটি সেতু চালু হওয়ায় ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের হাজার হাজার মানুষ সবথেকে বেশি উপকৃত ও আনন্দিত। এবার আর কাউকে পুজোয় বা বর্ষায় আটকে থাকতে হবে না। কথা রাখার জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।”

দীর্ঘদিনের এই মারাত্মক ডাইভারশন ভোগান্তি মিটে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, কৃষক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী—সকলের মধ্যেই এখন উপচে পড়া খুশির হাওয়া।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *