Falakata | ১০ মাসে সংখ্যা বেড়েছে ৫ গুণ, সাপের ছোবল ৫৩৫ জনকে 

Falakata | ১০ মাসে সংখ্যা বেড়েছে ৫ গুণ, সাপের ছোবল ৫৩৫ জনকে 

ব্লগ/BLOG
Spread the love


বর্ষাকাল শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ফালাকাটায় সাপের উপদ্রব কমেনি এখনও। বরং প্রতি মাসে বেড়েই চলেছে সাপের উৎপাত। তা সে বিষধর হোক কিংবা বিষহীন। সাপ নিয়ে এখন বেশ আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: চলতি বছরে মাত্র ১০ মাসেই ফালাকাটায় (Falakata) সাপের ছোবল খেয়েছেন ৫৩৫ জন। এখবর খোদ স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, সোজা অঙ্কের হিসেবই বলছে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন সাপের ছোবল খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবছর কয়েকগুণ বেড়েছে এই সাপের ছোবল খাওয়া রোগীর সংখ্যা। যা নিয়ে আতঙ্কিত খোদ সর্পপ্রেমীরাও। যদিও নিশ্চিন্ত থাকার মতো বিষয় হল, সাপের ছোবল খাওয়া এই ৫৩৫ জনের মধ্যে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি।

ফালাকাটা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার শুভাশিস শী বলেন, ‘রোগীরা সঠিক সময়ে হাসপাতালে আসায় আমরা তাঁদের চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছি। আমাদের এভিআরএসও পর্যাপ্ত আছে। তাই কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি।’ ঝাড়ফুঁক করানো বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার বদলে সঠিক সময়ে চিকিৎসার জন্য রোগীকে নিয়ে আসায় তা সচেতনতা বৃদ্ধির ফল বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ফালাকাটার সর্পপ্রেমী শংকর সাহা চৌধুরী বলেন, ‘লোকালয়ে রোজ সাপ বের হচ্ছে। মানুষের ফোন পেয়েই সাপ উদ্ধার করে বন দপ্তরের হাতে তুলে দিচ্ছি। আর যখন সাপ ধরছি তখন সচেতনতা প্রচারও করছি। আগের থেকে মানুষ সচেতন হয়েছেন বলেই সময়মতো হাসপাতালে যাচ্ছেন।’

ফালাকাটা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব রোগী সাপের ছোবল খাওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে বিষাক্ত সাপ ছোবল দিয়েছিল। সঠিক সময়ে তাঁরা হাসপাতালে আসায় চিকিৎসা করা গিয়েছে। এভিআরএস দেওয়ায় তারা বেঁচে গিয়েছেন। গত বছর জুন মাস পর্যন্ত হাসপাতালে সাপের ছোবল খাওয়া রোগী এসেছিলেন ৬২ জন। বছর শেষে তা ১০০ জন ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালেও সাপের ছোবল খাওয়া প্রচুর রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু এবার সাপের ছোবল খাওয়া রেকর্ড সংখ্যক রোগী হাসপাতালে এসেছেন।

সাপ নিয়ে কাজ করে আলিপুরদুয়ার বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংস্থা। সেই সংস্থার সম্পাদক কৌশিক দে বলেন, ‘প্রকৃতি ও আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই কোন সাপ বিষধর আর কোনটা বিষহীন তা আমরা চিনতে পারছি না। এর ফলে সাপ নিয়ে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দূর করতে আরও সচেতনতা প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও অ্যান্টিভেনমের জোগান রাখতে হবে।’

এরাজ্যে প্রায় ১১৪ প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে আবার ৯৮ প্রজাতির সাপ পাওয়া যায় উত্তরবঙ্গে। অর্থাৎ গোটা রাজ্যে যে সাপ পাওয়া যায় তার ৮৬ শতাংশ সাপ পাওয়া যায় উত্তরবঙ্গে। তারমধ্যে ১৮ প্রজাতির সাপ বিষধর। উত্তরবঙ্গে যে ৯৮ প্রজাতির সাপ আছে, তার মধ্যে আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পেই মেলে ৭৬ প্রজাতির সাপ। বলছে বন দপ্তর। আর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকায় মেলে ৩৯ প্রজাতির সাপ। আলিপুরদুয়ার জেলায় যত ধরনের সাপ পাওয়া যায়, তা গোটা রাজ্যের আর কোনও জেলায় নাকি পাওয়া যায় না বলে সর্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *