নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের (Jaldapara Nationwide Park) হলং বিটের কাছে হলং নদী পারাপারের জন্য একটা কাঠের সেতু ছিল। গত ৫ অক্টোবরের দুর্যোগে হলং নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল ওই সেতু। ফলত, স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি চরম সমস্যায় পড়েছেন শালকুমারহাট, প্রধানপাড়া ও নতুনপাড়ার কিছু ব্যবসায়ীরা। বিশেষত যাঁরা হকার, তাঁদের সমস্যা আরও বেশি। কারণ মাদারিহাট, হাসিমারা বা জয়গাঁ যাওয়ার জন্য তাঁরা এতদিন জলদাপাড়া উদ্যানের শালকুমার গেট দিয়ে ঢুকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কিছুটা অংশ পেরিয়ে, হলং বিটের কাছে ওই সেতু ব্যবহার করেই খাউচাঁদপাড়ার দিকে যেতেন। এখন সেই পথে তাঁদের যাতায়াত বন্ধ করেছে বন দপ্তর। ফলে এখন তাঁদের অনেকটা পথ ঘুরে ফালাকাটা হয়ে মাদারিহাট বা হাসিমারার দিকে যেতে হচ্ছে।
এই সমস্যা নিয়ে পেশায় মুরগি ব্যবসায়ী, নতুনপাড়ার বাসিন্দা এক্রামুল হক জানান, বহুদিন ধরেই নতুনপাড়া থেকে হাসিমারায় মুরগি নিয়ে যান তিনি। জলদাপাড়া উদ্যানের ভিতর হলং নদীর সেতু হয়েই খাউচাঁদপাড়া উঠতেন তিনি। তবে বর্তমানে সেতু ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প রাস্তা হিসেবে জাতীয় উদ্যানের ভেতর ৫০ ফুট বিটের সেতু দিয়েও যাতায়াত করতে পারছেন না তাঁরা। সেটি বন দপ্তরের কোর এরিয়ার অংশ হওয়ায় সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। তাঁর কথায়, ‘আমরা ১৫-২০ জন ব্যবসায়ী, বহুবছর ধরেই এই পথ ধরে যাতায়াত করছি। এখন হলং নদীর সেতু না থাকায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে অনেক।’
অপর ব্যবসায়ী প্রদীপ রায় বলেন, ‘আমরা চাই শীঘ্রই ওই ব্রিজ তৈরি করে দেওয়া হোক। অন্তত সাময়িক যাতায়াতের জন্য ডাইভারশন করে দেওয়া হোক। আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। এরপর বাধ্য হয়ে আমরা জঙ্গলের কাঠ আনতে গেলেও বন দপ্তর ধরে নিয়ে যাবে।’
রমেন রায় নামে আরেক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ‘পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, আমাদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা পর্যন্ত আসা বন্ধ করা দিয়েছে। ব্যবসা প্রায় বন্ধ বললেই চলে। এরপর কীভাবে রোজকার ভাত জোটাব বুঝতে পারছি না। অতটা ঘুরপথে যাতায়াতে সময়ও যেমন লাগে, খরচেও পুষিয়ে ওঠা যায় না। তাছাড়া এলাকার কেউ অসুস্থ হলে বীরপাড়া বা মাদারিহাটে নিয়ে যেতে হয়। এখন সেই পথও বন্ধ।’
এবিষয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক নবিকান্ত ঝা বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ওই ব্রিজ মেরামত করা সম্ভব নয়।’
The submit ভাঙা হলং সেতু, বিপাকে ব্যবসায়ীরা appeared first on Uttarbanga Sambad.
