সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: নজিরবিহীনভাবে বিদ্যালয়ের পোশাকের (Faculty Uniform) রং নীল-সাদা করে দেওয়ায় রাজ্যে তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। সরকারি নির্দেশের পর হাতেগোনা কিছু স্কুল ছাড়া রাজ্যের সমস্ত স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পোশাকের রং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বদলে ফেলে। যা নিয়ে একটি অংশের শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার রাজ্যে পালাবদলের পর কি ঐতিহ্য অনুযায়ী স্কুলগুলির পুরোনো পোশাকের রং ফিরবে? নাকি বিজেপি সরকার নিজেদের মতো করে আবার কোনও পোশাকের রং তৈরি করবে? বিদ্যালয়গুলির প্রধান শিক্ষকরা স্কুলের পোশাকের রঙের বিষয়টি সরকারের ওপর ছাড়তে চাইছেন। তবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ পুরোনো ঐতিহ্য অনুযায়ী স্কুলের পোশাকের রং ফিরিয়ে নিয়ে আসার পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। এসবের মাঝে অবশ্য ভারতীয় ঐতিহ্যের কথা বলে বিজেপি শিক্ষা সেলের তরফে স্কুলের পোশাকে গৈরিকীকরণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ির তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পোশাকের রং বদলে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য পোশাকের রং ধূসর ও সাদা। বিদ্যালয়ের নতুন পোশাকের রং কী হবে সেই বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোক নাথ রাজ্যের ওপর ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যেমন নির্দেশ দেবে, আমরা তেমনটা পালন করব।’ তবে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুলের পোশাকের রং বদলে পুরোনো রঙের পোশাক ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন। ইন্দ্রনীলের কথায়, ‘বিদ্যালয়ের পোশাকের রং কেবল শুধু পরিচয় নয়, এটা একটা আবেগ। এর সঙ্গে অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কার জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণে আমি পুরোনো রঙের ইউনিফর্মের পক্ষে। রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের টাকা খরচ করে পোশাক দেওয়ায় এক রঙের পোশাক তৈরি করছে। সরকার যদি ওই অর্থ স্কুলকে বরাদ্দ করে, সেক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ পোশাক তৈরি করতে উদ্যোগী হবে। চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে আগ্রহী নই।’
এদিকে, সনাতন ঐতিহ্য যাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাড়তে পারে, সেই চিন্তাভাবনার মধ্যে দিয়ে পোশাকের রং হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি সাংগঠনিক বিজেপি শিক্ষা সেলের আহ্বায়ক বিশ্বদীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘পুরোনো পোশাক ফিরিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। একটা স্কুলে যেমন মার্জিত পোশাক হওয়া উচিত সেই বিষয়ে আমাদের সরকার চিন্তাভাবনা করবে। সনাতনী ঐতিহ্য পোশাকে গুরুত্ব পাবে।’ তৃণমূল আমলে চাপিয়ে দেওয়া নীল-সাদা পোশাক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা পরতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জ্যোৎস্নাময়ী গার্লস হাইস্কুলের টিআইসি বনানী রায়। সেই কারণে তিনি পুরোনো পোশাকের রং ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন। বনানীর বক্তব্য, ‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যাতে প্রতিটি স্কুলে ঐতিহ্য মেনে পুরোনো পোশাকের রং ফেরানো হয়। আমাদের বিদ্যালয়ে হাতেগোনা ছাত্রী নীল-সাদা পোশাক পরে। বাকিরা সকলে নিজের টাকা খরচ করে লাল-সাদা পোশাক তৈরি করে সেটি পরে স্কুলে আসে। আর নিজস্ব ইউনিফর্ম থাকলে স্কুলের বাইরে আমাদের ছাত্রী কারা সেটা বোঝা যায়।’ বিদ্যালয়ের অভিভাবক স্বপ্না কর, তিথি চাকিরা পুরোনো রঙের পোশাকের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। দুজন অভিভাবক ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। স্বপ্না, তিথিরা জানান, লাল-সাদা পোশাকের মধ্যে আবেগ রয়েছে। মেয়েদের সেই পোশাক পরে দেখতেও ভালো লাগে। দুই রঙের পোশাক পরে মেয়েরা স্কুলে থাকলে দেখতে ভালো লাগে না।
তবে পোশাক নিয়ে শিলিগুড়ি নেতাজি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজীব ঘোষ সবটা নতুন সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। ওই বিদ্যালয়েও পোশাকের রং ধূসর ও সাদা ছিল। রাজীব জানান, সরকার যেমন নির্দেশ দেবে তেমনটা তিনি পালন করবেন।
