প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমানঃ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন খোদ পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরেই স্কুল পরিদর্শক (Faculty Inspector Attacked) ও শিক্ষকদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকদের মারে জখম হয়ে জামালপুর পূর্ব চক্রের স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ বর্তমানে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, স্কুলের এক শিক্ষকও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার আঝাপুর স্কুলে পরীক্ষার পরিস্থিতি তদারকি করতে গিয়েছিলেন সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) তথা স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ। অভিযোগ, সেই সময় প্রধান শিক্ষকের পাশের ঘরে একটি মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট চারজন আধিকারিক ছাড়া কারও মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি নেই। প্রশান্ত বাবু এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে এবং মোবাইল ফোন নিয়ে কেন ঢোকা হয়েছে তার কৈফিয়ত চাইলে স্কুলের ৭-৮ জন শিক্ষক তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। স্কুল পরিদর্শকের দাবি, তাঁকে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।
আঝাপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার বিশ্বাস অবশ্য ঘটনার অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্কুলের এক করণিক ভুল করে ফোন নিয়ে এসেছিলেন এবং তা ড্রয়ারে রাখা ছিল। সেটি নিয়ে স্কুল পরিদর্শকই চূড়ান্ত অশান্তি শুরু করেন। প্রধান শিক্ষকের পালটা অভিযোগ, স্কুল পরিদর্শকের মারে সঞ্জিত দাস নামে এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়ে বর্ধমান মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার খবর চাউর হতেই স্কুল পরিদর্শকের অনুগামী শিক্ষকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁরা মেমারি-তারকেশ্বর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আক্রান্ত স্কুল পরিদর্শক ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়েই স্কুলে পৌঁছায় মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা মনিটরিং কমিটি। কমিটির কনভেনার অমিত কুমার ঘোষ জানান, মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক দেবব্রত পাল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জানানো হয়েছে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এত বড় ঝামেলার মধ্যেও পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
