Electrical Automobiles | জ্বালানির জ্বালা, শিলিগুড়িতে দিন-দিন কদর বাড়ছে ইভি’র  

Electrical Automobiles | জ্বালানির জ্বালা, শিলিগুড়িতে দিন-দিন কদর বাড়ছে ইভি’র  

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


প্রিয়দর্শিনী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি: একদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান। এরই মধ্যে দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইলেক্ট্রিক ভেহিকল (Electrical Automobiles)। ব্যাটারিচালিত স্কুটার, চার চাকার বাজার এখন রমরমা। পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইন এবং আকাশছোঁয়া বিল থেকে রেহাই পেতে শিলিগুড়ি শহরের নাগরিকদের পছন্দের তালিকাতেও জায়গা করে নিচ্ছে ইভি।

তবে ইভি-র একটি প্রধান অসুবিধা গ্যারাজ সমস্যা। মাঝরাস্তায় হঠাৎ ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সাধারণ গ্যারাজে তা সারানোর উপায় নেই। কারণ, পেট্রোলচালিত গাড়ি সারাইয়ের মেকানিকরা মূলত ইভি-র কাজ করেন না। তাই বাধ্য হয়েই ছোটখাটো সমস্যার জন্যও শোরুমের ওপর ভরসা করতে হয় গ্রাহকদের।

যদিও ইভি চালক সায়ক দত্ত বলছেন, ‘শোরুমে সার্ভিসিংয়ের সময় খুঁটিনাটি সব সমস্যার কথা বলে সারাই করিয়ে নিই। মাঝরাস্তায় এখনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। আসলে পেট্রোলচালিত গাড়ির মতো এতে অনেক যন্ত্রাংশ থাকে না, তাই বিকল হওয়ার সম্ভাবনাও কম।’

সেবক রোডের একটি ইভির শোরুমের কর্মী বিজয় দাসের কথায়, ‘গাড়ির ইনসুরেন্স করার সময়ই আমরা সকলকে আরএসএ (রোড সাইড অ্যাসিস্ট্যান্স) করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিই। এর ফলে মাঝরাস্তায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে, লোক এসে নিকটবর্তী চার্জিং স্টেশন বা শোরুম পর্যন্ত গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা পাওয়া যায়।’

গ্যারাজের এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, উত্তরবঙ্গের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলিগুড়িতে ইভি বিক্রির গ্রাফ রীতিমতো ঊর্ধ্বমুখী। শিলিগুড়ির অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর (এআরটিও) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৭৬৬টি ইভি রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১৩০৭টি। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটা ছিল ১১২৩। এদিকে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৮৭৭টি ইভি-র রেজিস্ট্রেশন হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ এই তালিকা থেকেই পরিষ্কার যে, ইভির চাহিদা দিন-দিন বাড়ছে। শিলিগুড়ির অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক বিশ্বজিৎ দাস জানাচ্ছেন, রেজিস্ট্রেশনের দিকে তাকালেই ইভি-র সংখ্যাটা যে বাড়ছে, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

একসময় শুধুই পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক ইভি আজ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সাশ্রয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ‘ইভি বিপ্লব’-এর মূলে অবশ্য রয়েছেন ব্যবসায়ী, ডেলিভারি পার্টনার, নিত্যদিনের চাকরিজীবী এবং পড়ুয়ারা। শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ও পাইকারি বাজারগুলোতে মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য পেট্রোল-ডিজেলের বদলে কমার্সিয়াল ইলেক্ট্রিক অটোর ব্যবহারও অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ অবশ্য খরচ কমে যাওয়া। ব্যবহারকারীরা জানাচ্ছেন, পেট্রোল বা ডিজেলে চলা গাড়ির তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ কম খরচ হয় ইভিতে। তাছাড়া এতে ইঞ্জিন অয়েল বা গিয়ার বক্সের ঝামেলা না থাকায় সার্ভিসিং খরচও অনেকটা কম।

হিলকার্ট রোডে ই-স্কুটারে বসে ব্যাগে সামগ্রী ভরতে ব্যস্ত খাবার ডেলিভারি বয় রানা প্রসাদ বললেন, ‘সারাদিন শহরের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে হয়। যে হারে পেট্রোলের দাম বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন এত টাকা খরচ করা মুশকিল। ই-স্কুটারে সারারাত চার্জ দিয়ে রাখলে সারাদিনের কাজ চলে যায়। অনেকটাই টাকা বাঁচছে।’ দোকানে দোকানে পণ্য সরবরাহকারী রজত দাসও একই কথা বলছেন।

রবীন্দ্রনগর এলাকার একটি নামী ইভি শোরুমের মালিক রাজ রায় জানিয়েছেন, এমনিতেই ধীরে ধীরে ইভি-র চাহিদা বাড়ছিল। প্রধানমন্ত্রী পেট্রোলের ব্যবহার কমাতে বলায় ইভি-র চাহিদা আরও ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিজের ই-স্কুটারের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক চার চাকা কেনার পরিকল্পনা করছেন ব্যবসায়ী আনন্দ আগরওয়াল। তাঁর মতে, ‘আগে সার্ভিসিং সম্পর্কিত কিছু অসুবিধা থাকত, তবে এখন চাহিদা বাড়ায় কোম্পানিগুলিও বেশ ভালো পরিষেবা দিচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় আমি নিজেই অনেক উপকৃত।’

এদিকে, শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই মাটিগাড়া, তিনবাত্তি মোড়, চম্পাসারি এবং বাইপাস এলাকায় ইভি-র চার্জিং স্টেশন তৈরি হয়েছে। এনজেপি এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পেও ইভি চার্জিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সবমিলিয়ে সুবিধা-অসুবিধার মাঝেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় শহরবাসীকে ভরসা জোগাচ্ছে ইভি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *