উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনি কাজে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের ২ নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Fee)। চিঠিতে তাদের সাসপেন্ড করার পাশাপাশি এফআইআর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জনসভা থেকে সাফ ঘোষণা করেছিলেন কোনও অফিসারকে সাসপেন্ড করা হবে না। এদিন ফের একবার চিঠি দিয়ে ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ কেন কার্যকর করা হয়নি, তা নিয়ে নবান্নের বক্তব্য জানতে চাইল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি দ্রুত ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। এনিয়ে সোমবার তিনটের মধ্যে উত্তর দিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বার্তা দিয়েছে কমিশন।
সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং এখানকার AERO তথাগত মণ্ডল আর ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এই বিধানসভা কেন্দ্রের AERO সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে। এই চারজনের পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশের পর গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে জানান, ‘সরকারী কর্মচারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কালকে আমার ২ অফিসারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কি না, তাঁদের সাসপেন্ড করা হল। আমরা বলি, তোমার নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়েছে? কোন আইনের বলে তুমি নোটিস পাঠাচ্ছ? সাসপেন্ড করছ। আর বলে দিচ্ছ, এফআইআর করতে হবে। হবে না। আমি কারও পানিশমেন্ট হতে দেব না। এটা মাথায় রাখবেন।” তবে মুখ্যমন্ত্রী যখন আধিকারিকদের পাশে দাঁড়িয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছেন তখন নির্বাচন কমিশনের চিঠি সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেভাবে মুখ্যসচিবকে পদক্ষেপের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাতে রাজ্য প্রশাসন কি ভূমিকা নেয় সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
