উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ মঙ্গলবার রাত ৯টা বেজে ৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা (Earthquake Kolkata)। প্রায় ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনের জেরে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন অসংখ্য মানুষ। বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে সাধারণ বাড়ি— সর্বত্রই মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কম্পনের উৎসস্থল প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার (Myanmar Earthquake)।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার অফ জিওসায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমারে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৪ (Magnitude 6.4)। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল, যা মায়ানমারের আকিয়াব শহর থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত। শক্তিশালী এই কম্পনের রেশ ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশ এবং মায়ানমার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। রাত সোয়া নয়টা নাগাদ তিলোত্তমার বিভিন্ন প্রান্তে যখন মানুষ রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই টেবিল-চেয়ার বা ফ্যান দুলতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বরও কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছিল। তবে এদিনের কম্পন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় উদ্বেগের মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন তিব্বত এবং বাংলাদেশেও ভূকম্পন হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে বাংলাদেশে ৪.১ মাত্রার এবং সকাল ১০টা নাগাদ তিব্বতে ৩.২ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। যদিও সেই কম্পনের রেশ কলকাতায় পড়েনি। কিন্তু রাতে মায়ানমারে বড়সড় কম্পন হতেই কেঁপে ওঠে গোটা বাংলা ও ওপার বাংলা। আপাতত কোথাও কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, আতঙ্কে অনেককে অনেকক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকতে দেখা গিয়েছে।
