প্যান্ডেলে ঢুকতেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে জামাকাপড়। বারবার মুখ মুছেও স্বস্তি নেই, হাঁটতে হাঁটতে হাঁফ ধরছে, শরীর যেন ক্রমশ নেতিয়ে পড়ছে। পুজোর ভিড়ে এমন অভিজ্ঞতাকে অনেকেই স্বাভাবিক গরমের ফল বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীরের নিজেকে ঠান্ডা করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই বাধা পেতে পারে। তার সঙ্গে যোগ হয় দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব। ফলে বাড়তে পারে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি।
ঘাম হচ্ছে, তবু স্বস্তি নেই কেন?
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শরীর গরম হলে ঘাম উৎপন্ন হয়। ত্বকের উপর সেই ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার সময় শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যায়। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার গতি কমে যায়। ফলে ত্বক ঘামে ভিজে থাকলেও শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না।
আরও পড়ুন:
পুজোর সময়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় থাকা, দ্রুত হাঁটা, রোদে ঘোরা বা হাওয়া চলাচল কম এমন জায়গায় ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে শরীরে আরও তাপ জমতে পারে। শরীরের তাপ বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে তার উপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই শুধু ঘাম মুছে আবার হাঁটা নয়, শরীরের অস্বস্তির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

ক্লান্তি, না কি বিপদের সংকেত?
অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতার প্রথম লক্ষণ অনেক সময়ই সাধারণ ক্লান্তির মতো মনে হয়। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম, পেশিতে টান বা তেষ্টা দেখা দিতে পারে। এগুলি হিট এক্সহস্টশনের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জোর করে প্যান্ডেল ঘোরা চালিয়ে গেলে সমস্যা বাড়তে পারে।
আরও গুরুতর অবস্থা হল হিট স্ট্রোক। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে এই জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথা বলা, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া তার বিপজ্জনক লক্ষণ। এমন হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
কারা থাকবেন বেশি সতর্ক?
শিশু ও বয়স্কদের শরীর অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তুলনামূলক কম হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা, হার্ট, কিডনি বা অন্য দীর্ঘস্থায়ী অসুখে আক্রান্তদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কিছু ওষুধ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা জলীয় ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তা বন্ধ করা উচিত নয়।

পুজোর আনন্দে শরীরকে ভুলবেন না
প্যান্ডেল হপিংয়ে বেরলে সঙ্গে জলের বোতল রাখুন এবং নিয়মিত জল পান করুন। হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। একটানা হাঁটা বা ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকার বদলে মাঝে বিশ্রাম নিন। শরীর অস্বাভাবিক গরম লাগলে ঠান্ডা জল দিয়ে ত্বক ভিজিয়ে নেওয়া বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে আরাম মিলতে পারে।
মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে গরম জায়গা থেকে সরে ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন। সচেতন থাকলে এবং গিলতে অসুবিধা না হলে অল্প অল্প করে জল পান করুন। উপসর্গ বাড়লে বা না কমলে চিকিৎসা প্রয়োজন। খিঁচুনি হলে বা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে জোর করে জল খাওয়াবেন না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসার সহায়তা নিন।
পুজোর আনন্দ মানেই বেশি হাঁটা, বেশি ঘোরা, অনেকক্ষণ বাইরে থাকা। কিন্তু শরীরের সহ্যক্ষমতারও একটা সীমা রয়েছে। আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম ঝরলেই শরীর যথেষ্ট ঠান্ডা হচ্ছে, এমন নয়। তাই ঘাম মুছে আবার হাঁটার আগে একবার শরীরের কথা শুনুন। কয়েক মিনিটের বিশ্রামই বড় অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
