রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: কোনও পুজোমণ্ডপে এখনও রংয়ের প্রলেপ পড়ছে (Durga Puja 2025)। কোথাও আবার থার্মোকলের ওপর সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে পাশে ডিমের কার্টন জ্বালিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে কাজ করে যাচ্ছেন ডেকোরেটারের কর্মীরা।
হাতে আর মাত্র তিন থেকে চারদিন। তারমধ্যেই কাজ গুটিয়ে ফেলতে হবে। এরমধ্যে আবার যদি ঝেঁপে বৃষ্টি নামে তাহলে তো কাজ আটকে যাবে। এসব চিন্তা করেই রাতভর কাজ করছেন শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের ডেকোরেটাররা।
তৃতীয়ার রাত থেকেই পুজো মোডে চলে যাবে শহর শিলিগুড়ি (Siliguri)। বৃহস্পতিবার থেকেই দর্শনার্থীদের জন্যে মণ্ডপের দরজা খুলে দিচ্ছে শহরের অধিকাংশ পুজো কমিটি। শুক্রবার এবং শনিবারের মধ্যে শহরের সমস্ত পুজোর উদ্বোধন হয়ে যাবে। তবে রবিবার শহরের ১০টি প্রধান পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মান রাখতে তাদের এখন মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। টানা বৃষ্টিতে কাজই শেষ করতে পারেননি উদ্যোক্তারা। তাই নির্মীয়মাণ মণ্ডপেই মায়ের মূর্তি বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে ভার্চুয়াল উদ্বোধন করাবেন তাঁরা। তৃতীয়া বা চতুর্থীতে আবার ঘটা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক উদ্যোক্তা।
মহালয়ায় যে ১০টি পুজোর উদ্বোধন হচ্ছে সেই তালিকায় দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব রয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় তাদের মণ্ডপে প্রতিমা এসে পৌঁছায়। ক্লাবের পক্ষে বাবুল পালচৌধুরীর বক্তব্য, ‘কাজ তো এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করে দেওয়ার পর আবার কাজ হবে। আমরা তৃতীয়া থেকে মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্যে খুলে দেব।’
মহালয়া আসতেই পুজো পুজো ভাব চলে আসে। শহরের বিভিন্ন ক্লাবে এখন দেবীবরণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগে পঞ্চমী বা ষষ্ঠীর দিন পুজোর উদ্বোধন হলেও এখন মহালয়াতেই উদ্বোধন হয়ে যায় বড় পুজোর। আনুষ্ঠানিকভাবে দরজা খোলে তৃতীয়া, বড়জোর চতুর্থী থেকেই। এবারও শহরের ৩০টিরও বেশি বড় পুজোর তৃতীয়াতেই উদ্বোধন হয়ে যাচ্ছে। ওই তালিকায় দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব, সুব্রত সংঘ, মাটিগাড়ার মায়াদেবী ক্লাব, ভারতনগর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি, সঙ্ঘশ্রী ক্লাব, স্বস্তিকা যুবক সংঘ, সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটি, অরুণোদয় সংঘ, রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাবের মতো পুজো কমিটি রয়েছে।
সবারই এখন তৎপরতা তুঙ্গে। শক্তিগড় উজ্জ্বল সংঘের চতুর্থীতে উদ্বোধন। সেখানে মণ্ডপের বাইরে কারুকার্যের কাজ চলছিল। বাবুপাড়া ইয়ং মেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বোধন তৃতীয়ার সন্ধ্যায়। রামেশ্বরম মন্দির ফুটিয়ে তুলতে বাইরের কাঠামোয় রঙের প্রলেপ পড়ছিল। ভেতরে শিল্পীরা থার্মোকলের ওপর নকশা তৈরি করছিলেন। শক্তিগড় সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর উদ্বোধন চতুর্থীতে। বড় বড় লাইট জ্বেলে মণ্ডপের ভেতরের খুঁটিনাটি কাজ করা হচ্ছিল। সুব্রত সংঘের উদ্বোধনও রবিবার মুখ্যমন্ত্রী করবেন। কিন্তু সুব্রত সংঘের মণ্ডপও তৃতীয়ার সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের জন্যে খুলবে। কলকাতার মৃৎশিল্পী সঙ্গীদের নিয়ে মণ্ডপে বসেই মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তিতে রঙের প্রলেপ দিচ্ছিলেন।
সেন্ট্রাল কলোনির পুজোয় মহালয়ার সকালে মৃন্ময়ীর মূর্তিতে চক্ষুদান করা হবে। শনিবার তাই মণ্ডপে মায়ের মূর্তি সাজাতে তোড়জোড় চলছিল। সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির অফিস সেক্রেটারি সৌরভ নাথের বক্তব্য, ‘আমরা মহালয়ার সকালে মায়ের মূর্তিতে চক্ষুদান করব। এরপর গরিবদের জন্যে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, চক্ষু এবং দন্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। রক্তদান শিবিরও করছি আমরা। তৃতীয়ায় দর্শনার্থীদের জন্যে মণ্ডপের দরজা খুলে দেওয়া হবে।’
