সৌরভ রায়, হরিরামপুর: একটাই মন্দির। মন্দিরে দুটো আলাদা আসনে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মা দুর্গার সঙ্গে পূজিত হবেন মা কালী। ১৯৪ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য মেনে এইভাবেই পুজো হয়ে আসছে হরিরামপুর ব্লকের বেটনা গ্রামের চক্রবর্তীবাড়িতে (Durga Puja 2025)।
হরিরামপুর থেকে মালদা, রায়গঞ্জ কিংবা বালুরঘাট যাওয়ার জন্য ছিল মাটির সরু আলপথ। গোরুর গাড়ি চলাচলের জন্য ছিল মাটির রাস্তা। জঙ্গল ঘেরা হরিরামপুরে বাঘের দেখা পেয়েছেন এমন গল্প কান পাতলেই শোনা যায়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গিয়েছে হরিরামপুর। দুর্গা ও কালীপুজোর প্রচলন শুরু করেছিলেন মধুসূদন চক্রবর্তী। নানা ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে হরিরামপুরবাসীর মঙ্গলকামনায় এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল। যখন এই পুজো শুরু হয়েছিল, তখন ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোথাও দুর্গাপুজো হত না। হরিরামপুর বংশীহারীর একাধিক গ্রাম থেকে ধামসা-মাদল নিয়ে ছুটে আসতেন আদিবাসী মানুষজন। চলত মণ্ডপজুড়ে নাচ। অষ্টমীতে আসর বসত মনসা পালাগানের। কিন্তু এখন তা আর হয় না।
তবে বেটনা গ্রামের চক্রবর্তীবাড়ির পুজো প্রথম দিন থেকেই সর্বজনীন পুজোর রূপ নেয়। মন্দির প্রাঙ্গণে একচালার দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মাটির দেওয়ালের মাথায় টিনের চাল দিয়ে আটকানো পুরোনো মন্দিরেই এবারও পুজোর আয়োজন চলছে। দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর আয়োজন হয়ে আসছে চক্রবর্তীবাড়ির পুজো। সপ্তমীতে খিচুড়ি, অষ্টমীতে লুচি-পায়েস, নবমীতে অন্নভোগ হয়। পুজোর জোগাড়, ভোগ রান্না সবকিছু করেন চক্রবর্তীবাড়ির মেয়ে-বৌরা। দীর্ঘকাল ধরে পুজো চক্রবর্তীবাড়ির ছেলেরাই করতেন। করোনার পর থেকে বাইরের পুরোহিত দিয়ে পুজো হয়। পুজো শেষে দুর্গা ও কালী প্রতিমার নিরঞ্জন হলেও সারা বছরই এই মন্দিরে নিত্যপুজো হয়।
পুজোর উদ্যোক্তা অরুণাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্গাপুজোর সঙ্গে কেন কালীপুজো শুরু হয়েছিল তার সঠিক কারণ জানা নেই। তবে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপুজোর পরে রোজ কালীপুজো করা হয়। এখানে বলি দেওয়ার প্রচলন নেই।’ হাতেগোনা কয়েকদিন পরেই পুজো। তাই এখন থেকেই চক্রবর্তীবাড়িতে দুর্গাপুজোর সঙ্গে কালীপুজোর জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
