কিশনগঞ্জ: “আমি মেশিন নই, ডিউটি শেষ তাই আর ট্রেন চালাতে পারব না”— চালকের এই অনড় অবস্থানে কিশনগঞ্জের ঠাকুরগঞ্জ স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল যাত্রীবাহী ট্রেন। বুধবার ৭৫৭১৯ মালদা-শিলিগুড়ি ডেমু ট্রেনের (DEMU Prepare Delay) চালকের হঠাৎ কর্মবিরতিতে প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ঠাকুরগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থমকে রইল ট্রেনের চাকা (Driver Additional time Protest)। এর ফলে চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার হলেন কয়েকশো রেল যাত্রী।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী ওই ডেমু ট্রেনটি যখন ঠাকুরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়, তখনই চালক জানিয়ে দেন তাঁর ৯ ঘণ্টার ডিউটি শেষ হয়ে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় তিনি আর ডিউটি করতে পারবেন না। স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য রেল আধিকারিকরা বারবার তাঁকে ট্রেনটি অন্তত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে স্টেশনে মাইকিং করে যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে যাত্রীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে শিলিগুড়ি জংশন থেকে বিশেষ ইঞ্জিন ও চালক পাঠানো হয়। রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ শিলিগুড়ি জংশনের চালক সৌরভ কুমার ঠাকুরগঞ্জ পৌঁছান এবং ট্রেনটিকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা দেন। সৌরভ বাবু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এই নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে স্থানীয় রেল স্টেশনের আধিকারিকরা ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে মাঝপথে এভাবে চালকের কর্মবিরতি রেলের নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অনেক যাত্রীর প্রশ্ন, চালকের ডিউটি শেষ হওয়ার আগেই কেন বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখা হয়নি?
