উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বিদেশনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ বা বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপকে বারবার ব্যবহার করে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার তাঁর সেই একাধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Courtroom)। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত ঐতিহাসিক এক রায়ে ট্রাম্পের (Donald Trump) চাপানো এই বিপুল শুল্ক নীতি (Donald Trump Tariffs) সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ক্ষমতার সংঘাত ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া রায়
আমেরিকার সংবিধান (US Structure) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের কর বা শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে কেবলমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের (Congress)। প্রেসিডেন্টের হাতে এই ক্ষমতা সরাসরি নেই। তা সত্ত্বেও, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA)-কে হাতিয়ার করে, জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে ট্রাম্প এই একতরফা শুল্ক (Tariffs) আরোপ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, IEEPA আইনে প্রেসিডেন্টকে এমন কোনো বিশেষ বা অসাধারণ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। আদালতের মতে, কংগ্রেস যদি প্রেসিডেন্টকে শুল্ক চাপানোর এমন ক্ষমতা দিতে চাইত, তবে অন্যান্য শুল্ক আইনের মতোই এখানেও তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকত।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও কর্পোরেট মহলের বিদ্রোহ
রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে, আমেরিকার জাতীয় ও আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই ট্যারিফ অত্যন্ত জরুরি। এটি ছাড়া দেশ দেউলিয়া এবং প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়বে। কিন্তু বাজেট অফিস-এর পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির জেরে আগামী এক দশকে আমেরিকার অর্থনীতিতে (US Financial system) প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল প্রভাব পড়ার কথা ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে মার্কিন ট্রেজারি ইতিমধ্যেই আমদানিকারকদের কাছ থেকে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কর আদায় করে ফেলেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর এবার সেই বিপুল অঙ্কের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ময়দানে নেমেছে মার্কিন কর্পোরেট জগত। ইতিমধ্যেই ‘কস্টকো’ (Costco)-র মতো একাধিক প্রথম সারির কোম্পানি তাদের দেওয়া করের টাকা রিফান্ড বা ফেরতের দাবিতে আইনি পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
