উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ঘিরে তৈরি হওয়া পারদ এবার আরও চড়ল। আর তার জেরেই এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) তীব্র রোষের মুখে পড়ল আমেরিকার দীর্ঘদিনের ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ওমান (Oman)।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ওমান আমেরিকার অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের সঙ্গে ওমানের সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার খবরে বেজায় চটেছেন ট্রাম্প। মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকে ট্রাম্প সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের (Iran) সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোনো রকম সমঝোতায় গেলে ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে বা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। যদিও এই চরম হুমকির পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাপ্রকাশ করেছেন যে, আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত হয়তো এমন কোনো কড়া পদক্ষেপ করতে হবে না এবং ওমান আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই চলবে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আমেরিকার সঙ্গে ওমানের মজবুত সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও বর্তমান। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমু়জ প্রণালীর একদিকে রয়েছে ইরান এবং অন্যদিকে ওমান। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের আবহেই এই প্রণালীর ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে তেহরান। প্রথমে নিজেদের পছন্দসই দেশের জাহাজকে যাওয়ার ছাড়পত্র দিলেও, পরে জানা যায় যে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত জাহাজের থেকে যৌথভাবে ‘খাজনা’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। এমনকি ইরানের সরকারি টেলিভিশনে দাবি করা হয়, দুই দেশ মিলে যৌথভাবে হরমুজের জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এই সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও তৈরি হয়েছে।
এই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক এলাকা এবং এটি সবার জন্য খোলা থাকবে। কেউ এর একক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। আমেরিকা এর ওপর নজরদারি চালাবে। ট্রাম্পের একটি ভিডিও-ও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গেছে যে ওমানকেও বাকি দেশগুলোর মতো আচরণ করতে হবে, নয়তো তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন ধন্দও তৈরি হয়েছে।
অতীতেও ট্রাম্পের একাধিকবার ইরান এবং ভেনেজুয়েলাকে গুলিয়ে ফেলার নজির রয়েছে। ফলে তিনি ভুলবশত ওমানের নাম নিয়েছেন নাকি সত্যিই ওমানকে হুমকি দিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি-র তরফে এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব মেলেনি। অন্যদিকে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর তরফে ওমানের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিলেও, হরমুজের ওপর ইরানের আংশিক দাবিকে ওমান সমর্থন করে থাকতে পারে, আর সেই কারণেই দীর্ঘদিনের বন্ধুর ওপর এভাবে চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
